kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

আশুগঞ্জে পুলিশ-ডাকাত 'বন্দুকযুদ্ধ'

‘ডাকাত ভেবে আমার ওপর হামলা করে কি-না, ভয় পাচ্ছিলাম’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি    

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ১৪:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘ডাকাত ভেবে আমার ওপর হামলা করে কি-না, ভয় পাচ্ছিলাম’

‘ডাকাতদের ঘিরে ফেলার পর তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তারা গুলি করে। আমি লাফিয়ে গিয়ে ময়লা পানিতে পড়ি। ভয় পাচ্ছিলাম সহকর্মীরা আমাকে ডাকাত হামলা করে বসে কিনা। এক পর্যায় একজন অফিসার আমাকে দেখে ফেলেন এবং সেভ করেন।’

ডাকাতদলের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের বর্ণনা এভাবেই দিচ্ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মো. আলমগীর হোসেন। বুধবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে হওয়া সংবাদ সম্মেলনে তিনি ডাকাতদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের বয়ান দেন। এ সময় জানানো হয়, পানিতে পড়ায় ওই কর্মকর্তার সরকারি নম্বরের মোবাইল ফোন সেটটি নষ্ট হয়ে গেছে। আরো দুই পুলিশ সদস্য ফোন খুঁইয়েছেন।

মঙ্গলবার গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের যাত্রাপুর এলাকায় মঙ্গলবার গভীররাতে পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' সাদ্দাম হোসেন (২৬) নামে একজন নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, সাদ্দাম ডাকাতদলের সদস্য। তার বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা রয়েছে। নিহত সাদ্দাম জেলার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ
ইউনিয়নের বেপারীপাড়ার কাঙ্গাল মিয়ার ছেলে। পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

এ ঘটনায় তিন ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিরাসার এলাকার শামছুল হকের ছেলে আকাশ মিয়া (২৭), সরাইল উপজেলার নাথপাড়া এলাকার কাশেম মিয়ার ছেলে হৃদ মিয়া (২৫) ও উচালিয়াপাড়া এলাকার আমির হোসেনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৫)। পরে ডাকাতি করা মালামাল রাখার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার পৈরতলার বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে
পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, আশুগঞ্জ থানা পুলিশ ও সদর মডেল থানা পুলিশের সমন্বয়ে পুলিশের একটি দল ডাকাতির প্রস্তুতির খবরে ডাকাত ধরতে যাত্রাপুর এলাকার চাপাড়বাড়ি এলাকা ঘেরাও করে। এ সময় ডাকাতরা পুলিশের ওপর গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায়
সাদ্দামের মরদেহ পাওয়া যায়।

পুলিশ আরো জানায়, এ ঘটনায় চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ রাউন্ড রিভলবারের গুলি ও ১১ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে।

পুলিশ সুপার আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা সড়ক ডাকাতি, সিএনজি অটোরিকশা ছিনতাইসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত। ৩০-৩৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এর সঙ্গে জড়িত। অন্যদেরকে গ্রেপ্তারেও পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা