kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে উদয়নসহ বিভিন্ন ট্রেন ‘নামেই আন্ত নগর’!

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০৩:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে উদয়নসহ বিভিন্ন ট্রেন ‘নামেই আন্ত নগর’!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় স্মরণকালের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আন্ত নগর ট্রেন উদয়ন এক্সপ্রেসের (৭২৪ নং ট্রেন) দুটি বগি (কোচ) দুমড়েমুচড়ে গেছে। গত সোমবার রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে এ  ট্রেন দুর্ঘটনায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীবাহী উদয়ন ট্রেনের বগি দুটির মধ্যে একটি ৩৩ বছর এবং একটি ৩৪ বছর আগে আমদানি করা। 

চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে চলাচলকারী আন্ত নগর এ ট্রেনে ৫০ থেকে ৫৫ বছরের পুরনো বগিতেও যাত্রী বহন করা হয়। তবে বগির জন্য এ দুর্ঘটনা না ঘটলেও অভিযোগ উঠেছে, ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি অনেকটা নামেই আন্ত নগর। চলে সব পুরনো বগি দিয়ে। পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে এরই মধ্যে আমদানি করা বগি দিয়ে যাত্রী পরিবহন করা হলেও একমাত্র ওই রুটে চলছে সব পুরনো-জরাজীর্ণ বগিতে। 

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের আমলে যাত্রীসেবার মান উন্নত করার লক্ষ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৩৫০টি মিটার ও ব্রড গেজ বগি আমদানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে গত কয়েক বছরে ২৩০টি বগি দেশে এলেও একটি বগিও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী আন্ত নগর ট্রেনে লাগেনি। 

৫০ থেকে ৫৫ বছরের পুরনো বগি দিয়ে উদয়ন এক্সপ্রেস চলাচল করার বিষয়ে জানতে চাইলে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক নাসির উদ্দিন আহমেদ গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, গাড়ির (বগি) জন্য দুর্ঘটনা হয়নি। বগি নতুন কিংবা পুরনোর জন্য তো দুর্ঘটনা ঘটেনি। নতুন বগি (কোচ) এলে এই রুটে বিভিন্ন ট্রেনে সংযোজন করা হবে।

একই বিষয়ে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী মুনির হোসেন চৌধুরী বলেন, কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়েক দফায় নতুন ২৩০টি বগি এসেছে। তার মধ্যে শুধু ৫০টি ব্রড গেজ বগি পশ্চিমাঞ্চল রেলে গেছে। অন্য ১৮০টি মিটার গেজ বগি পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন আন্ত নগর ট্রেনে সংযোজন করা হয়েছে। লাল-সবুজের এসব বগি আগামী দুইতিন মাসে আরো আসবে ১২০টি। আমদানীকৃত নতুন এসব বগি উদয়নসহ অন্যান্য ট্রেনে লাগবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রেলওয়ে কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম থেকে সিলেট রুটে উদয়ন এক্সপ্রেস, পাহাড়িকা এক্সপ্রেস, ঢাকা-সিলেট রুটে চলাচল করা বগিগুলো জার্মানি, কোরিয়া, ইরান, রুমানিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা। এর মধ্যে জার্মানি থেকে আমদানি করা ১৯৬৫-৬৬ সালের বগি রয়েছে। এর আগে-পরে জার্মানি থেকে আরো কিছু বগি আমদানি করা হয়। জার্মানির পাশাপাশি অন্য দেশগুলো থেকে আমদানি করা বগিগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগে। ২৫ থেকে ৩০-৩৫ বছর আগে আমদানি করা বগি দিয়ে উদয়নসহ ওই রুটে বিভিন্ন আন্ত নগর ট্রেন চলছে।

উদয়ন ট্রেনকে ধাক্কা দেওয়া চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী আন্ত নগর ট্রেন তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসের বগিগুলো ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা। এর ইঞ্জিন প্রায় পাঁচ বছর আগে আমদানি করা। তখন এর বাজার মূল্য ছিল প্রায় ২০ কোটি টাকা। গতকালের দুর্ঘটনায় তূর্ণার ইঞ্জিন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা