kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

সৌদিতে নির্যাতন

শুক্রবার দেশে ফিরছেন সেই সুমি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০১:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শুক্রবার দেশে ফিরছেন সেই সুমি

সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশি গৃহকর্মী সুমি আক্তার (২৬) অবশেষে দেশে ফিরছেন। দেশটির নাজরান শহরের শ্রম আদালতে সুমির নিয়োগকর্তার (কপিল) দাবিকৃত অর্থ নামঞ্জুর হলে সুমির ফেরার পথ সুগম হয়।

শুক্রবার সকাল সোয়া ৭টায় এয়ার এরাবিয়ার একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) কে এম সালাউদ্দিন জানিয়েছেন।

জেদ্দা কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের নাজরান শহরের শ্রম আদালতে সুমির বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে।

ওই আদালত সুমির কফিলের (নিয়োগকর্তা) দাবিকৃত ২২ হাজার সৌদি রিয়াল পরিশোধের আবেদন নামঞ্জুর এবং সুমিকে ‘ফাইনাল এক্সিট’ (দেশে ফেরার অনুমতি) প্রদানের আবেদন মঞ্জুর করে।

কনস্যুলেট জানিয়েছে, শ্রম আদালতের আদেশের পর সুমি আক্তারকে তার বর্তমান কফিল তাৎক্ষণিকভাবে ‘ফাইনাল এক্সিট’ দিয়েছেন।

সৌদি আরবে পাশবিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছে সৌদি প্রবাসী নারী সুমি আক্তার (২৬)।

ভিডিওতে সুমি বলেন, ‘ওরা আমারে মাইরা ফালাইব, আমারে দেশে ফিরাইয়া নিয়া যান। আমি আমার সন্তান ও পরিবারের কাছে ফিরতে চাই। আমাকে আমার পরিবারের কাছে নিয়ে যান। আর কিছু দিন থাকলে আমি মরে যাব।’

সুমির পরিবার জানায়, ২০১৬ সালে নুরুল ইসলাম সুমি আক্তারকে বিয়ে করেন। সুমি পঞ্চগড় জেলার বোদা সদর থানার রফিকুল ইসলামের মেয়ে। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন তার স্বামী আগেও বিয়ে করেছেন।

বাধ্য হয়ে সুমি সতীনের সংসার শুরু করেন। বিয়ের দেড় বছর পর সুমির সংসারেও একজন সন্তান জন্মায়। সতীনের বিভিন্ন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে নিজের সন্তানকে মানুষ করার জন্য বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সুমি। এ জন্য চলতি বছরের জানুয়ারিতে গৃহকর্মীর ট্রেনিং শেষ করেন সুমি।

তখন বিনামূল্যে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে সেটি হাতছাড়া করতে চাননি সুমি। দালালদের দেখানো লোভ আর বিদেশে গিয়ে ভালো টাকা আয়ের আশ্বাসে বিনামূল্যে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবে পাড়ি জমান নিম্নবিত্ত ঘরের এই গৃহবধূ।

কিন্তু দালালরা বিদেশে পাঠানোর কথা বলে যে বিক্রি করে দিয়েছে সে কথা জানতেন না সুমি। সৌদি যাওয়ার সপ্তাহখানেক পর থেকে শুরু হয় তার ওপর মারধর, যৌন হয়রানিসহ নানা নির্যাতন।

উল্লেখ্য, গত ৩০ মে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকার নূরুল ইসলামের স্ত্রী সুমি ‘রূপসী বাংলা ওভারসিজ’র মাধ্যমে সৌদি আরব যান। সেখানে যাওয়ার পর থেকেই স্বজনদের কাছে তার ওপর নির্যাতনের ঘটনা বলতেন সুমি। দালালরা বিদেশে পাঠানোর কথা বলে তাকে যে বিক্রি করে দিয়েছে সে কথা জানতেন না সুমি। সৌদি যাওয়ার সপ্তাহখানেক পর থেকে শুরু হয় তার ওপর মারধর, যৌন হয়রানিসহ নানা নির্যাতন।

গত অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি ফেসবুকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের ওপর পাশবিক নির্যাতনের কথা বলে সুমি তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান। পরে ভিডিওটি ভাইরাল হয়। এ নিয়ে গত দুই দিনে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে সুমি আক্তারকে ফেরাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। পরে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের কার্যালয় থেকে কর্মকর্তারা সুমির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপরই তাকে পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা