kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

ট্রেন দুর্ঘটনায় লাশ হলো চাঁদপুরের স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজন

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ২১:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রেন দুর্ঘটনায় লাশ হলো চাঁদপুরের স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবার মন্দভাগে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্যদের সঙ্গে চাঁদপুরের একই পরিবারের দুজনসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা পরিবারের অন্য ৭ সদস্যরা আহত হন। হঠাৎ করে এমন অনাকঙ্খিত মৃত্যুর সংবাদের স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

এদের মধ্যে নিহতরা হলেন, জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও গ্রামের মজিবুর রহমান (৫৫) ও তার স্ত্রী কুলসুমা বেগম (৪৫)। মজিরর রহমান মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হার্ডওয়ারের ব্যবসা করতেন। তাদের তিন ছেলে রয়েছে। হঠাৎ করে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংবাদ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এ ছাড়া নিহত অপনজন চাঁদপুর শহরের নাজিরপাড়ার ফারজানা আক্তার (১৮)। নিহত গৃহবধূ ফারজানা আক্তার মোহন দেওয়ানের স্ত্রী। দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন, নিহত ফারজানা আক্তারের মা বেবী বেগম (৪০), ভাই  হাসান বেপারী (২৮), নানী ফিরোজা বেগম (৭০), ফারজানার মামি শাহিদা বেগম (৪০), মামাত বোন মিতু (১৭), ইলমা (৭) ও মামাতো ভাই জুবায়ের (৩)। আহতদের কুমিল্লায় চিকিৎসা চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারা আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে সিলেট থেকে লাকসাম যাচ্ছিলেন। পরে সেখান থেকে চাঁদপুরে গ্রামের বাড়িতে ফেরার কথা ছিল তাদের। কিন্তু ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় এদের কেউ হলেন লাশ। আবার অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন।

এদিকে নিহতদের মধ্যে বিকেলে নিহত ফারজানা আক্তারের মরদেহ চাঁদপুরে পৌছে। তার বাবার বাড়ি সদর উপজেলার উত্তর বালিয়া গ্রামে। বাবা বিল্লাল ব্যাপারি জানান, ফারজানা তার মা নানা নানু মানি ও ছোটভাইবোনদের সঙ্গে সিলেট বেড়াতে যায়। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন বলেন, মেয়ে কয়েক মাস আগে মোহন দেওয়ান নামে এক ছেলেকে ভালোবেসে বিয়ে করে। এই নিয়ে পরিবারের কিছুটা অশান্তিও ছিল।

নিহত মজিবুর রহমান ও তার স্ত্রী কুলসুমা বেগম সম্পর্কে হাজীগঞ্জ রাজারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হাদী জানান, এই পরিবারটি শ্রীমঙ্গল থাকতো। তবে গ্রামের বাড়িতে আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে তারা ট্রেনে উঠেছিল। স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এমন সংবাদ-ই পেয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে হাজীগঞ্জের মজিবুর রহমান ও তার স্ত্রী কুলসুমা বেগমের মরদেহ সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে। জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে তাদের মরদেহ দাফন করা হয়। এর আগে বিকেলে ফারজানা আক্তারের মরদেহ তার বাবার বাড়িতেই জানাজা শেষে দাফন করা হয়।
 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা