kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার তিন পুলিশ, গ্রেপ্তার ৯

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ১৮:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার তিন পুলিশ, গ্রেপ্তার ৯

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে ইজিবাইক চুরি মামলার আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন তিন পুলিশ কর্মকর্তা। আসামিদের স্বজনদের দায়ের কোপে গুরুতর আহত হয়েছেন উপ-পরিদর্শক রাজিবুল আহমেদ। দায়ের কোপে পিঠে গভীর জখম হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সহকারী উপ-পরিদর্শক হেমন্ত দেবনাথ ও ফজলুল হককে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় উপজেলার তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নের দশদ্রোন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. বদরুল হাসান আজ মঙ্গলবার দুপুরে জানান, রাজিবুলের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, এ পুলিশ কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে কিছুট ভালো। অন্য দুজনকে তাড়াইল হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের ভাষ্যমতে, দশদ্রোন গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে হিরণ মিয়া (৩৫), মেয়ে জামাই মো. আব্দুল আউয়াল(৩২) ও স্ত্রী রহিমা বেগম (৫০) ইজিবাইক চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য। গত ১ অক্টোবর তাদের বাড়ি থেকে তিনটি ইজিবাইকের যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় এ তিনজনসহ আরো কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়। সোমবার রাতে আসামি হিরণ মিয়াকে ধরতে তাদের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। হামলার শিকার তিন পুলিশ সদস্যসহ সাত পুলিশ এ অভিযানে অংশ নেয়। পুলিশ তিনজনকে আটক করার সময় রাজ্জাকের ছোট ছেলে রুমান মিয়া একটি দা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। এবং পুলিশ সদস্যদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। হামলার শিকার হয়েও পুলিশ আসামিদের ছাড়েনি। পরে তিন আসামিকে ধরে থানায় নিয়ে যায়।

এরপর রাত ১২টার পর পুলিশ সদস্যরা আবার সেখানে অভিযান চালায়ে পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত সন্দেহে দশদ্রোন ও আশপাশের এলাকা থেকে আরো ছয়জনকে আটক করে। এ সময় পুলিশ আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ি থেকে পাঁচটি গরু জব্দ করে নিয়ে যায়। পুলিশ বলছে, গরুগুলোর মালিকানা নিশ্চিত করতে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তবে গরুর মালিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমি বাড়ি ছিলাম না। এর মধ্যেই বাড়িতে এতোকিছু ঘটে গেছে। তার আটটি গরুর মধ্যে পাঁচটি গরু পুলিশ নিয়ে গেছে। গরুগুলোই তার সম্পদ। তাছাড়া পুলিশ তার বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বললেন, দশদ্রোন গ্রামের এই পরিবারটির বিরুদ্ধে ইজিবাইক ও গরু চুরির অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা হামলার শিকার হয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়েছে। চুরির মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ও হামলার ঘটনায় আরো ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ মামলাটির বাদী হবে পুলিশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা