kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

বায়োমেট্টিক হাজিরা মেশিন না কিনেই ভাউচার

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ১৭:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বায়োমেট্টিক হাজিরা মেশিন না কিনেই ভাউচার

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কর্মরত শিক্ষকদের বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন ক্রয় নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে এ মেশিন কেনার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। তবে কাগজে-কলমে এ বাবদ ব্যয় দেখানো হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উপজেলার ১০৫টি বিদ্যালয়ে মেরামত-সংস্কার ও বায়োমেট্রিক মেশিন কেনার জন্য বরাদ্দ হয় ৫৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ বরাদ্দ থেকে প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন কেনার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। কাগজ-কলমে অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের হাজিরা মেশিন ক্রয় হয়েছে-মর্মে এরই মধ্যে ব্যয় দেখানো হয়েছে।

হাজিরা মেশিন ক্রয়সংক্রান্ত যে ভাউচার এরই মধ্যে তৈরি করা হয়েছে তাতে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে ২০ হাজার আবার কোনোটিতে ১৪ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেরামত-সংস্কার করা হলেও এ মেশিন লাগানো হয়নি।

শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সভায় দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক হাজিরাপদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জুন মাসের মধ্যে এসব বিদ্যালয়ের জন্য হাজিরা মেশিন ক্রয় সম্পন্ন করার জন্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা ক্রয় করতে ব্যর্থ হয় সংশ্লিষ্ট দপ্তর। তবে হাজিরা মেশিন না কিনে এ খাতে খরচ দেখান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসকান আলী জানান, বিদ্যালয়ে মেরামত-সংস্কার ও বায়োমেট্রিক মেশিন কেনার জন্য ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সে টাকায় মেরামত-সংস্কার করা হয়েছে। কিছু সমস্যা থাকায় বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন কেনা হয়নি।

কল্যাণ-নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন কেনার জন্য ১৫ হাজার টাকা স্কুলের সভাপতির কাছে রাখা হয়েছে। সভাপতিকে অনেকবার বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন কেনার কথা বলা হয়েছে। সে কেন কিনছে না, তা আমার জানা নাই।

মারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান জানান, বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন কেনার জন্য সাড়ে ৭ হাজার টাকা ভাউচার করা হয়েছে। স্কুলের নানা সমস্যায় জর্জরিত। এ কারণে এখনো কেনা হয়নি। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন কেনার নির্ধারিত সময় পার হয়েছে। এখনো যেগুলো বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন কেনেনি, তাদেরকে মেশিন কেনার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা