kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৭ । ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৪ সফর ১৪৪২

ট্রেন দুর্ঘটনায় শোকের মাতম

বাবা-মা সকালে আসার কথা এখনো বাড়ি আসেনি কেন?

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ১৬:২২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাবা-মা সকালে আসার কথা এখনো বাড়ি আসেনি কেন?

ছবি : কালের কণ্ঠ

'বাবা-মা তো সকাল ৯টার মধ্যে বাড়ি চলে আসার কথা এখনো আসেনি কেন? তোরা আমার বাবা-মাকে এনে দে। আমার ভাগ্যটা এমন কেন। নিজের বাবা-মায়ের থেকে আমার শ্বশুর-শাশুড়ি আমাকে বেশি আদর করতো।'

বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত দম্পতি মজিবুর রহমান (৫০) ও জেসমিন বেগম (৪২) বড় ছেলে কাউসারের স্ত্রী রহিমা আক্তার (১৯)। মজিবুর ও জেসমিন দম্পতি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের রাজারগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম রাজারগাঁও বেপারী বাড়ির বাসিন্দা। মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভয়াভহ ট্রেন দুর্ঘটনায় এই দম্পতি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। মজিবুর রহমান ওই ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বেপারী বাড়িরে মৃত আঃ জলিলের ছেলে।

নিহত দম্পতির ছোট ছেলে ইয়াসমিন (১৬) জানান, বাবা শ্রীমঙ্গল স্টেশান বাজারে হার্ডওয়ারের ব্যবসা করতেন। কিছুদিন আগে বাবার কাছে মা বেড়াতে যায়। আজ মঙ্গলবার সকালে বাবা-মা বাড়িতে এসে পৌঁছার কথা ছিলো। গত রাত সাড়ে ৯ বাবা-মায়ের সাথে আমার শেষ কথা হয়। উনারা শ্রীমঙ্গল থেকে ট্রেনে করে রওনা দিয়েছেন এমন সময় আমাকে বাড়িতে ফোন দেন। এ সময় আমি মোবাইলে লোডের টাকা চাইলে মা বলেন বাবার আমরা কিছু টাকা নিয়েছি কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হবে। এর পরে আমি রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি রাত সাড়ে ৩টার সময় ফোনে খবর পাই ট্রেন দুর্ঘটায় বাবা-মা দু‘জনেই মারা গেছেন বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ইয়াসমিন।  

সরজমিনের মঙ্গলবার দুপুরের বেপাড়ী বাড়িতে গেলে দেখা যায় পুরো বাড়িসহ এলাকায় শোকের মাতম চলছে। একত্রে একই পরিবারের দুজনের মৃত্যুর ঘটনা এলাকাবাসীসহ পরিবার কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। 

নিহত জেসমিনের ছোট বোনের স্বামী আলী মুন্সী জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে আমরা ট্রেন দুর্ঘটনা এলাকার থানা থেকে খবর পাই আমার ভাই আর আপা মারা গেছেন। ভোর রাতেই আমার নিহত বোনের দুই ছেলে কাউসার আর সবুজ ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গেছেন আর সেখানের সকল প্রক্রিয়া শেষ করে লাশ নিয়ে বাড়ি আসবেন। 

এ বিষয়ে স্থানীয় রাজারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহজ্ব আব্দুল হাদী জানান, নিহত দম্পতি আমার এলাকার বাসিন্দা। তাদের সহায়তার জন্য আমার যা করণীয় তাই আমি করবো আর ওই পরিবারের সাথে আমার যোগাযোগ রয়েছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা