kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

শিশুর কোমল দেহটা টুকরো হয়ে গেছে...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০৯:৫১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শিশুর কোমল দেহটা টুকরো হয়ে গেছে...

আজ ভোর ৪টা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগে যেন নরক নেমে এলো। স্তব্ধ ভোরে মানুষের ঘুম ভাঙে গগনবিদারী আওয়াজে। দুমড়ে মুচরে যাওয়া ভারী ধাতব কাঠামো, লাশ-রক্ত আর মানুষের আর্তচিৎকার- আজ ওখানে যেন কোনো নারকীয় যজ্ঞ দেখছে মানুষ। দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ১৫ জন নিহতের খবর সাত সকালেই মিলেছে। সেই দলে যোগ হয়েছে আরেকটি শিশু। এখন মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬-তে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা দেখেছেন, শিশুটির কোমল দেহটা টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। শিশুটি ছেলে না মেয়ে বোঝা যাচ্ছে না, লাশ এমনই ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আজ সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে এই শিশুর খোঁজ মেলে।

কসবা ওপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের ক্রসিংয়ে আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ট্রেন দুটো দুই দিকে যাচ্ছিল। কর্মকর্তারা জানান, উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা নিশীথার মধ্যে সংঘর্ষ হয় চলন্ত অবস্থায়। উদয়নকে লুপ বা সাইড লাইনে যখন পাঠানো হচ্ছিল তখন এর পেছনের তিনটি বগি মূল লাইনে থাকতেই ঢাকাগামী তূর্ণা চলে আসে এবং  সংঘর্ষ ঘটে।

জেলা প্রশাসক হায়াত উদ-দৌলা কালের কণ্ঠকে সকাল সোয়া সাতটায় জানিয়েছিলেন, ১৫ জন নিহত হওয়ার ব্য্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে ৯ জন, কসবা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তিনজন, বৃাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে দুই জন ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়। হিসেবটা বাড়ালে এই শিশুটি। 

তবে কর্মকর্তারা জানান, মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বগির নিচে আরো মরদেহ থাকতে পারে। হতাহতদের উদ্ধার কাজ চলছে। অনেকের কাটা হাত-পা উদ্ধার হচ্ছে। এ দৃশ্য অসহনীয়। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা