kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

লোহাগাড়ায় কাদায় আটকা পড়ে বন্য হাতির মৃত্যু

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০৩:১০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



লোহাগাড়ায় কাদায় আটকা পড়ে বন্য হাতির মৃত্যু

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চুনতি অভয়ারণ্যে কাদায় আটকা পড়া একটি বন্য হাতির মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের নারিশ্চা গ্রামের চাকমার জোন এলাকায় হাতিটি কাদায় আটকা পড়ে এবং গত রবিবার ভোরে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যায়। 

চুনতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘শুক্রবার কোনো একসময় নারিশ্চা চাকমার জোন এলাকায় একটি বন্য হাতি কাদায় আটকা পড়ে। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমি বন বিভাগের কর্মকর্তাদের খবর দিই। পরের দিন বন বিভাগের লোকজন বন্য হাতিটিকে কাদা থেকে উদ্ধার করে চিকিত্সার ব্যবস্থা করেন।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া রেঞ্জের আওতাধীন ডলু বন বিট কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন জানান, বয়স্ক ও অসুস্থ একটি বন্য হাতি কাদায় আটকে পড়ার খবর পেয়ে বন বিভাগের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া এবং আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় বন্য হাতির কয়েকটি পাল অবস্থান করায় তারা তাত্ক্ষণিকভাবে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। 

পরের দিন (শনিবার) চুনতি বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া ও চুনতি রেঞ্জের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় লোকজনের যৌথ চেষ্টায় হাতিটিকে কাদা থেকে উদ্ধার করে শুকনো জায়গায় নেওয়া হয়। এরপর চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের সহকারী ভেটেরিনারি সার্জন মো. মোস্তাফিজুর রহমান অসুস্থ হাতিটির চিকিত্সা শুরু করেন। চিকিত্সাধীন অবস্থায় রবিবার ভোরে হাতিটির মৃত্যু হয়। ওই দিন বিকেলে মৃত হাতিটির ময়নাতদন্ত শেষে গর্ত করে মাটিচাপা দেওয়া হয়। 

সহকারী ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কাদায় আটকে পড়া হাতিটি উদ্ধারের পর দেখা যায়, হাতির বাঁ পায়ে পচন ধরেছে। পচন দেখে মনে হচ্ছে, হাতিটির পায়ে অন্তত কয়েক মাস আগে কাটা বাঁশের কঞ্চিতে আঘাত পেয়েছিল। ওই ক্ষত স্থানে পচন শুরু হওয়ায় হাতিটি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে খাবার খেতে না পারায় দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তাই কাদায় নামার পর আর উঠতে পারেনি। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা