kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

হরিরামপুরে প্রতিপক্ষের দেওয়া আগুনে পুড়ল বসতবাড়ি

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১১ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হরিরামপুরে প্রতিপক্ষের দেওয়া আগুনে পুড়ল বসতবাড়ি

ফাইল ছবি

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে প্রতিপক্ষের দেওয়া আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে আব্দুল মাজেদ নামের এক ব্যক্তির বসতবাড়ি। তাঁর বাড়ি উপজেলার চালা ইউনিয়নের উত্তর চাঁনপুর গ্রামে। গত রবিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন আব্দুল মাজেদ মুন্সি। তবে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বলে জানিয়েছেন অভিযুক্তরা।

পারিবারিক ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জমি নিয়ে হরিরামপুর উপজেলার চালা ইউনিয়নের উত্তর চাঁনপুর গ্রামের আব্দুল মাজেদ মুন্সির (৫০) সঙ্গে একই গ্রামের সামসুল হক (৫৫), করিম বিশ্বাস (৪০), মোজাহার প্রামাণিক (৪৫), মোমেজুদ্দিন (৫৫) ও ইমান আলী শিকদারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই জেরে সামসুল হকসহ অন্যরা আব্দুল মাজেদ মুন্সির কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় মাজেদ মুন্সিকে ক্ষতি করার হুমকি দেয় তারা। গত ৪ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে মাজেদ মুন্সি স্থানীয় চাঁনপুর বাজারের নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় সামসুল হক, করিম, মোজাহার, মোমেজুদ্দিনসহ ১৫-২০ জন লোক দেশে তৈরি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাজেদ মুন্সির ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁর কাছে থেকে আট হাজার টাকা ও একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এ ঘটনার সামসুল হক, করিম, মোজাহার, মোমেজুদ্দিনসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মানিকগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করলে আসামিরা মামলা উঠিয়ে নিতে মাজেদ মুুন্সির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। অন্যথায় ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা। বিষয়টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান ও চালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল আলম বিশ্বাসকে জানালে তাঁরা তিন দিনের মধ্যে মামলা উঠিয়ে নিতে চাপ দেন।

আব্দুল মাজেদ মুন্সির ছেলে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘মামলা করার পর আসামিদের হুমকিতে আমরা সপরিবারে বাড়িঘর ছেড়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিই। গত রবিবার রাতে আসামিরা আমাদের বসতবাড়িতে পেট্রল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে ধান-চালসহ ঘরের যাবতীয় আসবাব ভস্মীভূত হয়ে গেছে।’ এতে ছয়-সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে অভিযুক্ত সামসুল ইসলামসহ অন্যরা জানান, এ ঘটনার সঙ্গে তাঁরা জড়িত নন। নিজেরাই ঘটনা ঘটিয়ে আব্দুল মাজেদ মুন্সি তাঁদের নামে মিথা মামলা করেছেন।

থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মুঈদ চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় আব্দুল মাজেদ মুন্সি থানায় মামলা করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা