kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

প্রবেশপত্র 'বিক্রি' করছিলেন ছাত্রলীগ নেতা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১১ নভেম্বর, ২০১৯ ২১:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রবেশপত্র 'বিক্রি' করছিলেন ছাত্রলীগ নেতা!

গাজীপুরের কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজে দুটি শ্রেণীর পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে। কলেজ প্রশাসন থেকে প্রবেশপত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ৫২০ টাকায় তা বিক্রি করা হচ্ছিল। এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া তৈরী হলে ছাত্রলীগ নেতারা প্রবেশপত্র ফেরত দিতে সম্মত হয়েছেন। কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে সোমবার বিকেলে প্রবেশপত্র বিক্রি বন্ধ হয়।

সূত্র জানায়, কলেজে ১৪ নভেম্বর থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর নির্বাচনী ও একাদশ শ্রেণীর অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। পরীক্ষার আগে কলেজের শিক্ষকদের মধ্য থেকে তিনজনকে দিয়ে একটি পরীক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি পরীক্ষার সাম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে কলেজ পরিচালনা কমিটির কাছে। সভাপতি বাজেট অনুমোদন করার পর আনুষাঙ্গিক কাজ শুরু করেছে পরীক্ষা কমিটি। সেখানে প্রবেশপত্র বিক্রি সংক্রান্ত বিষয় নেই।
শনিবার কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা পরীক্ষা কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক শহীদ হাসানের কাছে গিয়ে প্রবেশপত্র তাদের কাছে দিয়ে দিতে বলেন। প্রবেশপত্র অধ্যক্ষের কাছে আছে জানালে তারা চলে যান। এরপর সোমবার সকালে পরীক্ষা কমিটি জানতে পারে  ছাত্রলীগ নেতারা অফিস থেকে প্রবেশপত্র নিয়ে গেছেন। তারা পরীক্ষার্থীদের কাছে ৫২০ টাকা করে প্রবেশপত্র বিক্রি করছেন। অধ্যক্ষকে বিষয়টি জানালে তিনি  কোন পদক্ষেপ নেননি।
পরীক্ষা কমিটির আহবায়ক সোমবার বিকালে ঘটনাটি জানান কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিবলী সাদিককে। তলব করা হলে কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি তানভীর মোল্লা ও সাধারন সম্পাদক লিখন উপস্থিত হন ইউএনও কার্যালয়ে। প্রথমে তারা প্রবেশপত্র বিক্রি করার কথা অস্বীকার করেন। পরে ৬০টি প্রবেশপত্র নেয়ার কথা স্বীকার করে তা দ্রুত ফেরত দিবেন বলে জানান।

কয়েকজন শিক্ষক জানান, অধ্যক্ষের সহযোগিতায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রবেশপত্র অফিস থেকে নিয়ে গেছেন। সে কারণে তিনি পরবর্তী পদক্ষেপে গড়িমসি করেন। এখন ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শিবলী সাদিক বলেন, 'একটি ঘটনা ঘটছিল। জানতে পেরে বিষয়টির মিমাংসা করে দিয়েছি।'

কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এমআই লিখন দাবি করেন, তারা কোন প্রবেশপত্র নেননি, বিক্রিও করেননি। এ ধরণের কোন ঘটনা কলেজে ঘটেনি।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফেরদৌস মিয়ার মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা