kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত

বুলবুলের আঁচড় লাগেনি কক্সবাজার উপকূলে

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০১:৪৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বুলবুলের আঁচড় লাগেনি কক্সবাজার উপকূলে

বঙ্গোপসগারে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুল গতকাল শনিবার মধ্যরাতে আঘাত হানার কথা থাকলেও কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় রাত ১২টা পর্যন্ত স্বাভাবিকই ছিল। বিশেষ করে জেলার কুতুবদিয়া, মহেশখালীর ধলঘাটা, মাতারবাড়ী, পেকুয়া উপজেলার মগনামা, রাজাখালীসহ বিভিন্ন উপকূলীয় ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতি উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসন জনসাধারণের মধ্যে সতর্ক থাকার আহবান জানায়। এ কারণে সাধারণ মানুষ সতর্কতার অবলম্বন হিসেবে অনেকেই নিরাপদ জায়গায় অবস্থান নেয়।

শনিবার সকাল থেকেই রাত পর্যন্ত কোথাও কোথাও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অথবা মুষল ধারে বৃষ্টি হলেও সাগরের জোয়ারের পরিস্থিতি ছিল মোটমুটি স্বাভাবিক। পূর্ণিমা থাকায় জোয়ারের পানি কোথাও কোথাও ১-২ ফুট পানি বৃদ্ধি পায়। গতকাল রাত ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলার ত্রাণ কর্মকর্তা রইস উদ্দিন মুকুল জানান- উপকূলীয় এলাকা থেকে জোয়ারের পানিতে গ্রাম ডুবে যাওয়ার খবর সরকারি দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা কিংবা জনপ্রতিনিধিরা জানাননি।

তিনি আরো জানান- রাতেই কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া ও টেকনাফের নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। তবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হানার পর জোয়ারের স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আবাহাওয়া অফিসের নির্দেশনা রয়েছে। 

এদিকে কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ স ম শাহরিয়ার চৌধুরী গতকাল রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে জানান- গতকাল সারাদিনই জোয়ারের পানি স্বাভাবিক ছিল। তবে রাতের দিকে জোয়ারের পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। যেসব এলাকায় বেড়িবাঁধ নাই সেসব এলাকা দিয়ে জোয়ারের পানি একটু একটু করে লোকালয়ে ঢুকছে। অপরদিকে মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান জানিয়েছেন- গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব তার এলাকায় পড়েনি। জোয়ারের পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার সারাদিন থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল।

ছুটিতে কক্সবাজার বেড়াতে আসা অনেক পর্যটক নিরাশ হয়ে ফিরছেন
টানা তিন দিনের ছুটি পেয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা প্রচুর সংখ্যক পর্যটক নিরাশ হয়ে পড়েছেন। ভ্রমণ পিয়াসী অনেকেই চেয়েছিলেন কক্সবাজারের সঙ্গে প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনস ঘুরে আসতে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বুলবুল তাদের সেই শখ মিটাতে দেয়নি। এ কারণেই নির্ধারিত ছুটি শেষ হবার আগেই নিরাশ হওয়া পর্যটকদের একটি বড় অংশ ঘরে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন।

তারপরেও ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সম্ভাব্য আঘাত থেকে কক্সবাজার আশংকামুক্ত থাকার আশায় গতকাল শনিবার পর্যন্ত অনেক পর্যটক হোটেলে অবস্থান নিয়ে রয়েছেন। স্থানীয় হোটেল-কটেজ সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে হালকা বর্ষণের কারণে অনেকেই হোটেলে বন্দি সময় কাটানোর চেয়ে নিজ ঘরে ফিরে যাওয়া শ্রেয় মনে করেছেন। এ কারণে শুক্রবার রাত ও গতকাল সকালে বেশির ভাগ পর্যটক ফিরেছেন নিজ গন্তব্যে।

ওদিকে সেন্ট মার্টিনসে আটকা পড়া সহস্রাধিক পর্যটকের থাকা-খাওয়ায় অন্তত শতকরা ৫০ ভাগ ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। জেলা প্রশাসক জানান, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দ্বীপে পর্যটক জাহাজ চলাচল করা নিরাপদ নয়। তবে যারা ইতিমধ্যে দ্বীপে ভ্রমণে গিয়ে আটকা পড়েছেন তাদের সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। 

এদিকে আবহাওয়া বিভাগ সূত্রে কক্সবাজার জেলা ঘূর্ণিঝড় বুলবুল থেকে আশংকামুক্ত বলা হলেও জেলা প্রশাসন উপকূলীয় ৮টি জেলায় ৫০৭টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। জেলায় উদ্ধার কাজের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে রেডক্রিসেন্টের উদ্ধারকারী সাড়ে ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে। তদুপরি সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রতি উপজেলায় ২ লাখ ৬২ হাজার টাকা ও ২০৬ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা