kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শুকনো খাবার নিয়ে বাড়ি ফিরছেন অনেকে

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শুকনো খাবার নিয়ে বাড়ি ফিরছেন অনেকে

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সোনাগাজীতে অর্ধশত আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হলেও সেখানে থাকতে আগ্রহীর সংখ্যা নিতান্তই কম। উপকূলীয় চরচান্দিয়া, চরদরবেশ ও সদর ইউনিয়নের বাসিন্দারা আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে গড়িমসি করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাগাদা থাকলেও নিজেদের ঘরবাড়ি ফেলে তারা নড়ছেন না। ঝুঁকি বিবেচনায় তীরবর্তী বাড়িঘর থেকে লোকজনকে জোর করে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া হলে তাদের অনেককে সরকারি সাহায্য শুকনো খাবার নিয়ে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।

সূত্র জানায়, স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও  স্বেচ্ছাসেবকরা বারবার অনুরোধ করছেন আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে। কিন্তু বাড়িঘর ও পশুপাখি রেখে আশ্রয় কেন্দ্রে যাচ্ছেন না বেশিরভাগ মানুষ। ঘরবাড়ির নিরাপত্তার পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রের পরিবেশ নিয়ে তারা চিন্তিত। বেশিরভাগ আশ্রয়কেন্দ্রে স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা। কয়েকটি কেন্দ্রে আলোর ব্যবস্থা নেই। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পূর্ব চরচান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় মাত্র ২০/২৫ জন উপকূলবাসী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। তারাও পরিস্থিতি বুঝে চলে যেতে আগ্রহী।

সোনাগাজী ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) উপজেলা দলনেতা শান্তি রঞ্জন কর্মকার বলেন, 'ঘূর্ণিঝড়ের সময় এলাকার মানুষদের বারবার অনুরোধ করা হয়। তারপরও সবাইকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনা সম্ভব হয় না। মানুষ তাদের বাড়ি-ঘর ও সম্পদ রেখে কিছুতেই আসতে চায় না।'

চরচান্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা আলী আহম্মদ ও ফরিদা বেগম বলেন, 'আশ্রয় কেন্দ্রে গেলে বাড়িঘরে চুরি হয়। তাই বিপদ জেনেও বাড়িতে থাকতে চায় মানুষ।'

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব বলেন, ' ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সোনাগাজীতে অর্ধশত আশ্রয়কেন্দ্রসহ উপজেলার সবকটি বিদ্যালয়কে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। ১০টি চিকিৎসক দল এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সিপিপির দেড়হাজার স্বেচ্ছাসেবকসহ দু’হাজার কর্মী প্রস্তুত রয়েছেন। মজুদ রাখা হয়েছে প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার।'

সূত্র জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, পৌরসভার মেয়র এডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন, চরচান্দিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিলন, সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুল আরেফিন, চরদরবেশ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম ভূট্টো ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপকূলীয় গ্রামগুলো গিয়ে মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে অনুরোধ করেন। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে গৃহপালিত পশু রাখার ব্যবস্থা আছে বলে তারা জানান। তারপরও সাড়া মিলেছে কম। কথা রাখার জন্য অনেকে আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে খাবার গ্রহণ করে ফিরে এসেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা