kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বরগুনায় ১৫ জেলেসহ মাছ ধরা ট্রলার নিখোঁজ

বরগুনা প্রতিনিধি   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ২০:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বরগুনায় ১৫ জেলেসহ মাছ ধরা ট্রলার নিখোঁজ

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে উত্তাল বঙ্গোপসাগরের নারিকেল বাড়িয়া এলাকায় ১৫ জেলেসহ এফবি তরিকুল নামের একটি মাছ ধরা ট্রলার নিখোঁজ রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী। এ ছাড়া তালতলী উপজেলার প্রায় ৬৫ জন জেলেসহ ছয়টি ট্রলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার একদিন পরে নিরাপদে উপকূলে এসে পৌঁছেছে।

গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া বেশীর ভাগ ট্রলারই পাথরঘাটা মৎস্য বন্দরে ফিরে আসলেও গত ৭ অক্টোবর বরগুনা সদর উপজেলার নলী এলাকার নজরুল ইসলামের মালিকানাধীন এফবি তরিকুল নামের একটি মাছ ধরা ট্রলার বঙ্গোপসাগরের নারিকেল বাড়িয়া নামক এলাকায় ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এ ট্রলারে মাঝিসহ ১৫ জন জেলে ছিলো। এরপর অন্য একটি ট্রলারের মাধ্যমে তারা বরগুনায় খবর দেয়। খবর শুনে বরগুনা থেকে একটি ট্রলার তাদের উদ্ধারে গিয়ে নারিকেল বাড়িয়া, শ্যালাসহ বিভিন্ন এলাকায় অনেক খোঁজাখুজি করেও কোনো সন্ধান পায়নি।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় আমরা ধারণা করছি  ট্রলারটি হয়ত ডুবে গেছে অথবা সুন্দরবনের কোথাও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে জলোচ্ছাসের কারণে বরগুনার নদী ও সাগর তীরবর্তী যেসব এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে তারমধ্যে রয়েছে বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা, বালিয়াতলী, বদরখালী, নিশানবাড়িয়া, বড়ইতলা, মাঝেরচর, গুলিশাখালী, আয়লা পাতাকাটা, বুড়িরচর। বেতাগী উপজেলার দক্ষিণ কালিকাবাড়ি, আলিয়াবাদ, উত্তর কালিকাবাড়ি, ভোড়া। আমতলী উপজেলার বৈঠাকাটা, পশুরবুনিয়া, জেলে পাড়া, কলাগাছিয়া, আমতলী পৌরসভার আম্মুয়ার চর। তালতলী উপজেলার খোট্টারচর, তেতুলবাড়িয়া, নলবুনিয়া, আশারচর, সখিনা ও আমখোলা, পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের, কাকচিড়া। বামনা উপজেলার রামনা, তালেশ্বর এলাকার মানুষ জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় ২ লাখ মানুষ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে আছে। বেরি বাঁধের বাইরে আশ্রায়ণ প্রকল্পের বসবাসরত লোকজনও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

এদিকে বরগুনাসহ সাতটি উপকূলীয় জেলার জন্য ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করার পরে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছে। বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানিয়েছেন, বরগুনায় ৩৪১টি সাইক্লোন শেল্টারসহ ৫০৯টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র এবং ৪২টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে। খোলা হয়েছে ৮টি জরুরি কন্ট্রেলা রুম।

৫০৯টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৫ লক্ষাধিক লোক আশ্রয় নিতে পারবে। যারা আশ্রয় কেন্দ্রে যাচ্ছে, তাদের জন্য দুপুরে খিচুরী রান্না চলছে। জেলা প্রশাসক আরও জানিয়েছেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় ইতোমধ্যেই মন্ত্রণালয় থেকে ১০ লাখ টাকা, গবাদী পশুর খাদ্যের জন্য ১ লাখ টাকা, শিশুখাদ্যের জন্য ১ লাখ টাকা, ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ৩৫০ প্যাকেট খাবার পেয়েছেন। তারা আরো ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার মজুদ রেখেছেন।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির উপজেলা টিম লিডার জাকির হোসেন মিরাজ জানিয়েছেন, জেলায় ৬ হাজার ৩৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক মাঠে রয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা স্বপন কুমার ব্রহ্ম জানিয়েছেন, জেলার ৩৭ কিলোমিটার বেরিবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর পোর্ট অফিসার মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, বরগুনা থেকে সকল রুটের নৌচলাচল বন্ধ রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে জেলার সর্বত্র থেমে থেমে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা