kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

এখনই আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে রাজি না রাঙ্গাবালীর বাসিন্দারা

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ১৯:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এখনই আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে রাজি না রাঙ্গাবালীর বাসিন্দারা

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ শক্তিশালী হয়ে উপকূলের কাছাকাছি চলে আসায় পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। তবে প্রশাসনিক সবধরনের প্রস্তুতিসহ সতর্ক সংকেত দেওয়া থাকলেও আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে না এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দা। তাদের দাবি, আবহাওয়ার এখন পর্যন্ত তেমন কোনো পরিবর্তন নেই।

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ সম্পর্কিত সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ও আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং ও প্রচারণা চালাচ্ছেন জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকরা। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে দমকা হাওয়া না থাকায় ও থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় লোকজন শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে যায়নি। এদিকে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৫৪টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ১৩ মুজিব কিল্লা প্রস্তুত রয়েছে মানুষসহ পোষা প্রাণীদের জন্য।

উপজেলা সিপিপি সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গাবালী উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৬৪ ইউনিটে কাজ করার পাশাপাশি মাইকিংসহ সবধরনের প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছে তাদের লোকজন।

উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের চরইমারশন এলাকার বেড়িবাঁধের বাহিরে বসবাসরত বাসিন্দা বেল্লাল প্যাদা বলেন, আবহাওয়ার তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। থাইকা থাইকা বৃষ্টি হইতেছে। তাছাড়া বাতাসও নেই। ফনি বইন্যার সময় ও এমন হইছে পরে কিছু হয় নাই। এই লইগ্যা (জন্য) সাইক্লোন সেন্টারে (শেল্টার) যাই নাই।

একই এলাকার আরেক বাসিন্দা নান্নু প্যাদা বলেন, এখান থেকে দাড়ছিরা নদী পার হয়ে সাইক্লোন শেল্টার প্রায় ২ থেকে আড়াই কিলোমিটার পথ। গরু ছাগল নিয়ে এত পথ যাওয়া আরো জামেলা। আমাদের চর এলাকায় সাইক্লোন সেন্টার (শেল্টর) দরকার।

উপজেলায় সিপিপি টিম লিডার ও চালিতাবুনিয়া মমতাজ উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে আমাদের ৬৪টি টিম কাজ করছে। ইতোমধ্যে শনিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার লোকজন আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। তবে উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে প্রায় ৫ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রক বেড়িবাঁধ নেই। সেখানে স্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায়। আর বুলবুল যদি আঘাত হানে সেখেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি হবে ওখানে বসবাসরত ১৫ হাজার লোকজনের।

এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান বলেন, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। তবে রাত ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে মুভ করতে শুরু করেছে।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা