kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

ঘুর্ণিঝড় ‘বুলবুল’

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য উঠানামা বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ২০:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য উঠানামা বন্ধ

ঘুর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর প্রভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকায় বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য স্থানান্তর (লাইটারিং) বন্ধ রয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অ্যালার্ট-৩ জারি করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী বন্দর জেটিতে থাকা সব জাহাজ শনিবার সকালের মধ্যেই বহির্নোঙরে চলে যাবে। জেটিতে পণ্য উঠানামার কাজ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। আর বহির্নোঙরে থাকা সব ধরনের জাহাজ ইঞ্জিন চালু রাখবে যাতে বাতাসের তোড়ে যেকোনো ঝুঁকি এড়ানো যায়।

চট্টগ্রাম বন্দরের ডেপুটি কনজারভেটর ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, আবহাওয়া দপ্তর ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের জন্য ছয় নম্বর বিপদ সংকেত দেখানোর পর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অ্যালার্ট-৩ জারি করেছে। এর আগে দুই নম্বর অ্যালার্ট ছিল।

ক্যাপ্টেন ফরিদ বলছেন, তিন নম্বর অ্যালার্টের ফলে শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে বন্দর জেটিতে থাকা ১৮টি জাহাজ পণ্য উঠানামা বন্ধ রেখে বহির্নোঙরে চলে যাবে। সকাল নয়টার মধ্যে সেই কাজ সম্পন্ন হবে। আর বহির্নোঙরে থাকা ১৪৯টি জাহাজকে ইঞ্জিন চালু রেখে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনার পর থেকে কর্ণফুলীতে থাকা সব ধরনের জাহাজকে কর্ণফুলী সেতুর উজানে চলে যাওয়ার নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। ৯০ শতাংশ জাহাজ নিরাপদে চলে গেছে। বাকি জাহাজগুলো রাতের মধ্যে চলে যাবে।

এর আগে গতকাল শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে বন্দর কর্তৃপক্ষ করণীয় নির্ধারণে জরুরি বৈঠকে বসে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে। তখন আবহাওয়া দপ্তরের স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত তিন নম্বরে থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষও নিজস্ব অ্যালার্ট-২ জারি করে। পরে সন্ধ্যায় আবহাওয়ার বিপদ সংকেত বাড়িয়ে ছয় নম্বরে উন্নীত করায় বন্দরের অ্যালার্টও বাড়িয়ে তিন নম্বরে উন্নীত হয়।

এদিকে, এর প্রভাবে শুক্রবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম শহরে গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশে সূর্যের দেখা মিলেনি।

ঘুর্ণিঝড়ের কারণে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকার অধিবাসিদের সাইক্লোন শেল্টারে যাওয়ার অনুরোধ করেছে প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি, শ্রমিক ও সেবকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এছাড়াও রেডক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবি দল ও ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রশাসন জরুরি প্রস্ততি সভা করে করণীয় নির্ধারণ করেছে।

জানা গেছে, আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী এটি চট্টগ্রাম বন্দর বা আশপাশের এলাকা দিয়ে আপাতত অতিক্রমের সুযোগ নেই। শনিবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী দিন রবিবার সকালের মধ্যে এটি বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চল দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে। 

এরপরও সতর্কতার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের সংকেতের কারণে শুক্রবার সকাল থেকেই চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য স্থানান্তর বন্ধ রয়েছে। মুলত পণ্য নামানোর কাজে নিয়োজিত ছোট জাহাজগুলো উপকুল থেকে বহির্নোঙরে বা সাগরে যেতে না পারায় কাজ বন্ধ রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা