kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাইরে তালা, ভেতরে কোচিং চালু

সরকারের নিষেধাজ্ঞা মানছেন না স্কুলের শিক্ষকরা

নিয়াজ মোরশেদ. আক্কেলপুর (জয়পুরহাট)    

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:৩২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাইরে তালা, ভেতরে কোচিং চালু

বিভিন্ন স্থানে চলছে কোচিং, বাইরে তালা দেওয়া থাকলেও ভেতরে গোপনে কোচিং পরিচালনা করা হচ্ছে

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা উপলক্ষে গত ২৫ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সরকারের সেই সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের প্রায় সবগুলো কোচিং সেন্টার পরিচালকরা নিয়মিত চালু রেখেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব কোচিং সেন্টার পরিচালনার সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি স্কুলশিক্ষকরাও জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
 
সরেজমিনে গত বুধবার বিকেলে পৌরসদরের রূপনগর এলাকার ‘আলফা কোচিং’ সেন্টারে গিয়ে দেখা গেছে, কোচিং সেন্টারের সাইনবোর্ডটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। নীচতলায় বাসাবাড়ি আর ওপরের তালায় কোচিং সেন্টার। সেখানে একটি কক্ষে ৮ম শ্রেণির ৮ জন শিক্ষার্থীকে কোচিং করানো হচ্ছিল। ওই কক্ষে মেহেদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। তিনি জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার মাহমুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। কোচিংটির পরিচালক এবং ওই বাড়ির মালিক ছানাউল ইসলাম। তিনিও ক্ষেতলাল উপজেলার বড়াইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা সদরে প্রায় ১৫-২০টি কোচিং চালু রয়েছে। এর মধ্যে মাস্টার পাড়া এলাকায় ‘সাকসেস কোচিং সেন্টার’ পরিচালনায় আছেন মেহেদী হাসান। ওই কোচিংয়ের অন্য শিক্ষকরা হলেন শামীম হোসেন, মাসুদ হোসেন এবং বিহারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল জলিল। 
 
একই এলাকায় ‘সূর্য কোচিং সেন্টার’ পরিচালনা করেন অমিত কুমার মন্ডল। এই কোচিং সেন্টারের শিক্ষকরা হচ্ছেন সুব্রত কুমার, নিশু হোসেন, আভি, হামিদুল ইসলাম, প্রশান্ত, চয়ন, জয়, রাজু ও জুলেখা। ওই এলাকার দারাজ হোসেন বাড়ির গেটে তালা দিয়ে ঘরের ভেতরে কোচিং চালু রেখেছেন।  
 
থানা মোড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় কোচিং চালু রেখেছেন আক্কেলপুর সরকারি এফ.ইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক ফেরদৌস হোসেন। চলমান জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় তার কাছে কোটিং করা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার হল আক্কেলপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে নানা ধরনের অনৈতিক সুবিধা প্রদান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তার ভাড়া বাসায় কোচিং চালু রয়েছে। 
 
এছাড়াও উপজেলা সদরে এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু কোচিং সেন্টার চালু রয়েছে। তবে সরকারের কোচিং বন্ধ রাখতে এমন সিদ্ধান্তে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন কোনো ভূমিকা রাখছেন না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমাজের সচেতন সুধীজনরা।
 
আলফা কোচিং সেন্টারের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিবা বলেন, সাররা কোচিং বন্ধ রাখেননি। আমারা প্রতিদিন এখানে পড়াশোনা করতে আসি।
 
সূর্য কোচিং সেন্টারের পরিচালক অমিত কুমার মন্ডল কালের কণ্ঠকে বলেন, এবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোচিং বন্ধ রাখার বিষয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়নি। অমরা এ বিষয়টি জানি না। তাছাড়া সব যায়গাতেই কোচিং চালু রয়েছে। আমাদের এখানে শুধুমাত্র তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদেরকে পড়াশোনা করানো হয়।
 
দারাজ হোসেন বলেন, আমি আমার বাসায় প্রায়ভেট পড়াই, কোনো সেন্টারে কোচিং করাই না।
 
অভিযোগ অস্বীকার করে আক্কেলপুর সরকারি এফইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক ফেরদৌস হোসেন বলেন, আমি পরীক্ষার হলে গিয়ে কোনো শিক্ষার্থীকে সহযোগিতা করিনি। এ বিষয়ে আর কোনো বক্তব্য দিতে রাজি নই।
 
নাম না প্রকাশের শর্তে একজন অভিভাবক বলেন, আমার মেয়ে খুব মেধাবী। আমার মেয়ে আমাকে জানিয়েছে পরীক্ষার হলে গিয়ে অফিস সহায়ক ফেরদৌস হোসেন তার কাছে কোচিং করানো শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করেছেন। আমি বিষয়টি ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষককে জানিয়েছি।
 
আক্কেলপুর সরকারি এফইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন বলেন, আমি শুনেছি আমার স্কুলের অফিস সহায়ক নাকি অন্য স্কুলে গিয়ে তার কাছে কোচিং করা শিক্ষার্থীকে সহযোগিতা করেছেন। তবে তিনি যদি গিয়েও থাকেন, তবে সেটি আমি জানি না। আমাকে তিনি কখনো কিছু জানাননি। এর দায়ভার তাকেই নিতে হবে।
 
আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাকিউল ইসলাম বলেন, কোচিং চালু রয়েছে তা আমার জানা ছিল না। আমি এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা