kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

ডিনদের অবহেলায় অযোগ্যরাও দিয়েছে ভর্তি পরীক্ষা!

মোবারক আজাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়   

৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০৩:২৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডিনদের অবহেলায় অযোগ্যরাও দিয়েছে ভর্তি পরীক্ষা!

২০১৮ সালে আবেদনের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ২০১৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে মানোন্নয়নের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছেন ভর্তীচ্ছুদের অনেকে। বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের গাফিলতিতে অযোগ্যদের এভাবে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের মধ্যে অনেকে উত্তীর্ণ হয়ে অর্জন করেছেন উল্লেখযোগ্য অবস্থানও। তবে নিয়মবহির্ভূতভাবে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণরা ভর্তি হতে পারবেন না বলেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আর ডিনদের খামখেয়ালিতে আবেদনে তাঁদের সুযোগ দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভর্তির সুযোগ না দেওয়াটা প্রতারণার শামিল বলে মনে করছেন তাঁরা। মেধাতালিকায় এসেও ভর্তি হতে পারবেন না—এমন অন্তত পাঁচজনের তালিকা আছে কালের কণ্ঠ’র কাছে।

জানা গেছে, নিয়মানুযায়ী আবেদনের অযোগ্য প্রায় সাড়ে ১১ হাজার শিক্ষার্থী এবার আবেদন করেন। ভর্তি বিজ্ঞপ্তির অস্পষ্টতা থাকায় আবেদন করেছেন তাঁরা। কিন্তু তাঁদের বাদ দেওয়ার দায়িত্ব আবেদনপ্রক্রিয়ায় জড়িত আইসিটি সেলকে না দিয়ে নিজেদের কর্তৃত্বে রেখেছিলেন ডিনরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহামেদ, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ এফ এম আওরঙ্গজেব, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ বি এম আবু নোমানসহ বেশ কয়েকজন ডিন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ। তাঁরা বর্তমান রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারকে বেকায়দায় ফেলে সমালোচিত করতে বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এবারের কাজটিও এরই একটি অংশ।

ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষের (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির জন্য যারা ২০১৮ সালের উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষার ফলাফলে আবেদনের যোগ্য ছিল না তবে ২০১৯ সালের উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় (মানোন্নয়ন) অংশগ্রহণ করে যোগ্যতা অর্জন করেছে, তারা আবেদনের যোগ্য বিবেচিত হবে। আর যারা গত বছর যোগ্য ছিল, এ বছর তাদের কোনো সুযোগ নেই।’ কিন্তু গত ২৭ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে দেখা যায়, ২০১৮ সালের উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষার ফলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের যোগ্য ছিলেন তাঁরাও পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। অথচ নিয়মানুযায়ী তাঁদের দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। 

জানা গেছে, পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলেও ভর্তির আগে যাচাই-বাছাইয়ে আটকে যাবেন এসব শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার এস এম আকবর হোছাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত বছরের যোগ্য পরীক্ষার্থীরা এ বছর ভর্তি হতে পারবে না। যদি গত বছর অযোগ্য থাকে, এ বছর মানোন্নয়ন দিয়ে যোগ্য হয়েছে, তাহলে পরীক্ষা দিতে পারবে|’ তবে নিয়মবহির্ভূতভাবে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণরা ভর্তি হতে পারবেন না বলে জানান তিনি।

সার্কুলারে যেহেতু আবেদনের যোগ্য বলা হয়েছে, সেহেতু বাছাইপ্রক্রিয়া আবেদনের সময় না হয়ে ভর্তির সময় কেন হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. হানিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আবেদন করতে পারছে কারণ বোর্ডের ডাটা সিস্টেমে তার ২০১৯ সালের ডাটা দিয়েছে।’ তাহলে যাচাই কখন হয় এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যারা পুরাতন (মানোন্নয়ন) আছে, তাদের তালিকাটা প্রত্যেক ইউনিটে পাঠিয়ে দিয়েছি| তারা ম্যানুয়ালি যাচাই করে অযোগ্যদের বাদ দিয়ে দেবে। আইসিটি সেলকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে ডিন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. সেকান্দর চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যা কিছু যাচাই করার সব আইসিটি সেল করে। এ ছাড়া যাচাই-বাছাইয়ের পুরো বিষয়টি কার একাডেমিক শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার এস এম আকবর হোছাইন ভালো বলতে পারবে।’ তবে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ ইউনিটপ্রধানদের দায়িত্ব বলে নিশ্চিত করেন একাডেমিক শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার এস এম আকবর হোছাইন।

এ বছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির আবেদন করেছিলেন এক লাখ ৬৬ হাজার ৮৭০ জন। তাঁদের মধ্যে মানোন্নয়নের পরীক্ষার্থী ছিলেন ১১ হাজার ৭৪১ জন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা