kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মৃত্যুর আগে বার্ন ইউনিটের চিকিৎসককে নুসরাত যা বলেছিল

নুসরাতের মা শিরিনা আক্তারের সাক্ষ্য থেকে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০৯:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মৃত্যুর আগে বার্ন ইউনিটের চিকিৎসককে নুসরাত যা বলেছিল

মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে আজ। এ মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণকালে নুসরাতের মা শিরিনা আক্তার বলেছিলেন, ‘২৭ মার্চ খবর শুনেই আমি মাদরাসায় ছুটে যাই। তখন অধ্যক্ষ আমার সঙ্গে খুবই খারাপ ব্যবহার করেন। পরে সোনাগাজী থানার দারোগা ইকবাল এসেও কটু কথা শুনিয়ে দেন। থানায় গিয়েও অসম্মানের শিকার হই। কোথাও সুবিচার পাইনি। ৪ এপ্রিল ফেনীতে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পি কে এম এনামুল হকের অফিসে গিয়ে সব কিছু খুলে বলি। কিন্তু সেখানেও কোনো সহায়তা পাইনি।’

৬ এপ্রিলের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ঘটনার কিছুক্ষণ পর সকাল ১০টার কিছু পর ছেলে নোমান মোবাইল টেলিফোনে আমাকে ঘটনা জানায়। সঙ্গে সঙ্গে ফেনী সদর হাসপাতালে যাই। সেখানকার চিকিত্সকরা ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

অ্যাম্বুল্যান্স ধরিয়ে ঢাকায় রওনা দিই। পথে কিছু কথা নুসরাত বলেছিল, যা মোবাইল ফোনে ধারণ করা আছে। কারা কিভাবে তাকে ডেকে নিয়ে আগুন দিয়েছে তার বক্তব্যেরও একাধিক ভিডিও রয়েছে।

শিরিনা বলেন, মৃত্যুর আগে বার্ন ইউনিটে চিকিত্সকের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে নুসরাত বলেছিল—আমাকে ছাদে ডেকে নেওয়ার পর সেখানে যারা ছিল তাদের মধ্যে আমি একজনকে চিনতে পেরেছি। সে হলো হুজুরের (সিরাজ) জেঠাশের মেয়ে তুহিন (উম্মে সুলতানা পপি)। তাকে আটক করা হলে কারা কারা জড়িত ছিল, সব প্রকাশ হবে। ওই ভিডিওটি সংরক্ষিত আছে।

পরে জবানবন্দি থেকে জানা যায়, নুসরাতকে যৌন নিপীড়নের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে থাকা অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন অধ্যক্ষ (বর্তমানে বরখাস্ত) এস এম সিরাজ উদ দৌলা। দুই অনুগত ছাত্র নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম জেলখানায় সিরাজের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি নুসরাতকে চাপ দিয়ে মামলা প্রত্যাহার করাতে বলেন। এতে কাজ না হলে তাকে পুড়িয়ে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালানোর নির্দেশনাও দেন তিনি।

আদালতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিরিনা বলেন, ‘১২ আসামির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আমরা জেনেছি, সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশে শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান জোবায়ের, জাবেদ হোসেন, উম্মে সুলতানা পপি ও কামরুন নাহার মনি আমার মেয়েকে হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এরা যেভাবে আমার মেয়েকে আগুনে পুড়িয়েছে, আমিও যদি এদের সেভাবে পারতাম তবে শান্তি পেতাম।’

এ মামলায় গত ২০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। ২৭ জুন থেকে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। মামলার ৯১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮৭ জন সাক্ষ্য দেন। বাকি চারজনের মধ্যে একজন বিদেশে থাকায় এবং তিনজনের সাক্ষ্য অন্য সাক্ষীদের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যাওয়ায় তাঁদের সাক্ষ্যগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি।

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে তার মায়ের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসাকেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে গেলে নুসরাতকে মাদরাসার প্রশাসনিক ভবন কাম সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা