kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জাবির আন্দোলনে শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

‘বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০২:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাবির আন্দোলনে শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশের চলমান আন্দোলনকে ঘিরে শিবির বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করছে বলে দাবি করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চলমান আন্দোলনে শিবিরের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে দাবি করে তাঁরা বলেন, ‘এ আন্দোলনের মদদদাতা শিবির।’

গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় নতুন প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘গত মঙ্গলবার আন্দোলনকারীদের মশাল মিছিল চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। তাদের একজনের মোবাইল থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং স্বীকারোক্তি থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে যে আন্দোলন সংগঠকগণ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনকে জাতীয় ইস্যুতে পরিণত করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। যে আন্দোলন চলছে তার পেছনে মদদ দিচ্ছে শিবির, সেটিও স্পষ্ট হয়েছে। আন্দোলনকারীগণ এ বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করছে।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে তোলা নয়, দেশকে অস্থিতিশীল করার যে পরিকল্পনা করা হয়েছে তার স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে। গতকাল (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীদের মশাল মিছিলে যোগ দিতে এসে দুজন শিবির নেতা ধরা পড়ায় উপাচার্যবিরোধী ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রক্টর অফিস মশাল মিছিলে যোগ দিতে আসা  দুজন শিবির নেতাকে মোটরসাইকেলসহ চৌরঙ্গী থেকে আটক করে।’

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আরো বলেন, ‘আন্দোলনকারীগণ কর্তৃক পালিত দিনের বেলার বিভিন্ন কর্মসূচিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম লক্ষ করা গেলেও সন্ধ্যা বা রাতের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। আন্দোলন সংগঠকগণ এ কাজে শিবির এবং বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে জমায়েত করে, তা ২২ অক্টোবর মশাল মিছিলে যোগ দিতে আসা শিবির নেতা ধরা পড়ায় তার প্রমাণ মিলেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রাধ্যক্ষ, বিভাগীয় সভাপতি প্রমুখ।

উপাচার্য অপসারণের দাবিতে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মশাল মিছিল করেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মশাল মিছিল চলকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌরঙ্গী এলাকা থেকে সাবেক দুই শিক্ষার্থী সাদ শরীফ ও নূরুল আমিনকে শিবির সন্দেহে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাদ শরীফ শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে স্বীকার করেছেন দাবি করে প্রশাসন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁদের পুলিশে সোপর্দ করে এবং সাদ শরীফের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সাদ শরীফকে আসামি করে বুধবার দুপুরে এ মামলা করা হয়। তার ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর ও ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে অন্যজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা