kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চিকিৎসক পেটালেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান!

বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ১৭:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চিকিৎসক পেটালেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান!

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক ইউসুফ আলী শেখের বিরুদ্ধে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাকিল হামজাকে মারপিট করে দেড় ঘণ্টা ওয়াশরুমে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠেছে। আহত চিকিৎসক বর্তমানে ওই হাসপাতালের কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলেও থানা পুলিশ মামলা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন আহত চিকিৎসক।    

চিকিৎসক ডা. শাকিল হামজা অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার হাসপাতালে রোগী দেখার সময় দুপুর পৌনে ১২টার দিকে একজন মহিলা (পুরাতন রোগী) এক যুবককে নিয়ে টিকিট ছাড়া রুমে প্রবেশ করেন। নতুন রোগীর চাপ থাকায় তাকে পরদিন আসার জন্য পরামর্শ দিই। তারা চলে যাওয়ার ৫-৭ মিনিট পর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ শেখ কক্ষে প্রবেশ করেই আমাকে মারপিট শুরু করেন। আমাকে গলা টিপে ধরে লাথি মারতে মারতে টেনেহিঁচড়ে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। এ অবস্থায় আত্মরক্ষার্থে আমি জরুরি বিভাগের ওয়াশরুমে প্রবেশ করলে আমাকে সেখানে দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে বের হয়ে একটি ওষুধ কম্পানির গাড়িতে পালিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছি।

বিকেলে ঘটনার বিষয়ে মামলা করতে থানায় গেলে ওসি সাহেব বলেন, আপনার সম্পর্কে অনেক নেগেটিভ কথা শুনেছি। অভিযোগ নেওয়ার কথা বললেও নানা টালবাহানায় তিনি অভিযোগ নেননি। বিষয়টি আমি সার্কেল এএসপি ও ঊর্ধ্বতন চিকিৎসক কর্মকর্তাদের অবগত করেছি।    

বেলকুচি থানার ওসি মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, চিকিৎসক থানায় এসে ঘটনার কথা জানিয়েছেন। অভিযোগ নিয়ে পরে আসবেন জানালেও আর আসেননি। ওসি আরো বলেন, চিকিৎসক কোনো অভিযোগ না দিলেও একজন মহিলা তার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেছেন।

বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. তাসলিমা জান্নাত জানান, ডা. শাকিলের সঙ্গে একজন নারী রোগীর কথাকাটাকাটির কারণে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তার লোকজন নিয়ে এসে কর্তব্যরত চিকিৎসককে মারপিট ও ওয়াশরুমে আটকে রেখেছিল। কোনো জনপ্রতিনিধি একজন সরকারি চিকিৎসকের গায়ে কোনোভাবেই হাত তুলতে পারেন না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ আব্দুল মমিন মন্ডলকে অবগত করা হয়েছে। তিনি (বৃহস্পতিবার) এলাকায় এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী শেখ মোবাইলে জানান, চিকিৎসক শাকিল হামজা একজন নারী রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। বিষয়টি জানার পর আমি চিকিৎসকের রুমে গিয়ে দুর্ব্যবহারের কারণ জানতে চাইলে তার সঙ্গে আমার তর্কাতর্কি হয়েছে। মারপিটের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বলেন, ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাচ্ছি। চিকিৎসক ঘটনার বিষয়ে এখনও কিছু আমাদের জানাননি। লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা