kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কলেজছাত্রী সেতু হত্যা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ১৬:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কলেজছাত্রী সেতু হত্যা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন

বরগুনার পাথরঘাটা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সেতু হত্যা মামলায় প্রধান আসামি পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জিয়াউল হক ছোট্টকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও বিশ হাজার টাকা জরিমানা এবং বাকি তিন আসামিকে বেকসুর খালাশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে বরগুনা নারী ও নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ রায় প্রদান করেন। মামলার আসামিরা হলো প্রধান আসামি জিয়াউল হক ছোট্ট, তার স্ত্রী নাহিদ সুলতানা লাকি, আবদুল্লাহ আল মামুন কাজী ও আনিচুর রহমান রেজবি খান। তাদের সকলের বাড়ি পাথরঘাটা পৌর এলাকায়।

আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ২৯ জুন আসামিরা কামরুন্নাহার সেতুকে (১৭) নিমর্ম নির্যাতন করে মৃতু নিশ্চিত করে বিষ খাইয়ে হত্যা করে আসামিরা। পরদিন ৩০ জুন সেতুর বড় ভাই নজরুল ইসলাম রিপন বাদী হয়ে পাথরঘাটা থানায় মামলা করেন। সেতু তখন পাথরঘাটা কলেজের ২০১২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। কলেজে সেতু মেধাবী ও ভালো ক্রীড়াবিদ হিসেবে সুনাম ছিল বলে জানান পাথরঘাটা কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলম।

দীর্ঘদিন সাত বছর মামলা চলার পরে চাঞ্চল্যকর সেতু হত্যা রায় দেওয়া হয়। আসামির পক্ষের কৌশুলী ছিলেন অ্যাড. কমল কান্তি দাশ ও সরকার পক্ষের বিশেষ পিপি মো.মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। 

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১২ সালের ২৯ জুন শুক্রবার রাত ৯টার দিকে পাথরঘাটা পৌর সভার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জিয়াউল হক ছোট্টর বাসায় গিয়ে কামরুন্নাহার সেতু (১৭) স্ত্রীর অধিকার দাবি করেন, নিজেকে অন্তঃসত্ত্বা বলেও জানান। তাদের মধ্যে দীর্ঘ দিনের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে জিয়াউল হক ছোট্ট ও তার স্ত্রী নাহিদ সুলতানা লাকীসহ ৪ থেকে ৫ জন মিলে জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে দিয়ে ঘর থেকে নামিয়ে দেয়। ওই সময় সেতু তার মা হোসনে আরা পাখিকে মোবাইলে বলেছে ছোট্টসহ ৪ থেকে ৫ জনে মিলে তাকে বিষ খাইয়ে দিয়ে ঘর বের করে দিয়েছে। ঘটনার সময় সেতুর কান্নাকাটি শুনে স্থানীয় লোকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে রাত দুটার দিকে সেতুর মৃত্যু হয়।

খালাশপ্রাপ্ত আসামি আবদুল্লাহ আল মামুন ও আনিসুর রহমান রেজবি খান বলেন, ঘটনার সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক না থাকলেও শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আমাদেরকে অহেতুক মামলায় জড়ানো হয়েছিল। আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি।

আসামির পক্ষের কৌশুলী অ্যাড. কমল কান্তি দাশ জানান, প্রধান আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিল। নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় ৪ আসামির মধ্যে ৩ জনকে খালাস প্রদান করেন আদালত। ধর্ষণ ও হত্যা মামলা রুজু হলেও আদালতে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। আমরা উচ্চ আদালতে ন্যায় বিচারের জন্য যাব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা