kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পরিবারসহ সেনাসদস্য নিখোঁজ!

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ১৩:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরিবারসহ সেনাসদস্য নিখোঁজ!

বগুড়ার শাজাহানপুরে ছুটিতে এসে হৃদয় (৩১) নামে এক সেনাসদস্য স্ত্রী-সন্তানসহ নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় নিখোঁজ সেনাসদস্যের ছোটভাই রানা মঙ্গলবার রাতে শাজাহানপুর থানায় সাধারন ডায়েরি করেছেন। নিখোঁজ সেনাসদস্য উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের পরানবাড়িয়া গ্রামের মৃত নুরুজ্জামানের পুত্র। বর্তমানে তিনি যশোর ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত।

নিখোঁজ সেনাসদস্যের ছোটভাই রানা জানান, প্রায় ১২ বছর আগে বড়ভাই হৃদয় সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি যশোর ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত। ৬ অক্টোবর ১০ দিনের ছুটিতে তিনি বাড়িতে আসেন। ১০ অক্টোবর দুপুরে তিনি স্ত্রী ও ৬ বছর বয়সী পুত্রসন্তানকে নিয়ে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের বামুনীয়া খিয়ারপাড়ায় শ্বশুড় বাড়িতে বেড়াতে যান। পরদিন বড়ভাই হৃদয়ের শ্বশুড় রবিউল ইসলাম জামাই বাড়িতে এসে জামা-কাপড় ও এলসিডি একটি টিভিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভ্যানবোঝাই করে নিয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে দিয়ে যান। এরপর হৃদয়ের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ১৮ অক্টোবর যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে সেনাসদস্যরা বাড়িতে এসে হৃদয়ের খোঁজ করেন এবং বলেন হৃদয়কে কোথায় লুকিয়ে রেখেছ বের করে দাও। তখন হৃদয়ের শ্বশুড় বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানেও তারা নেই। শ্বশুড় বাড়ির লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলে তারাও কিছু জানেন না বলে জানান। এরপর থেকে হৃদয় তার স্ত্রী-সন্তানসহ নিখোঁজ রয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ টুকু জানান, হৃদয় ঋণগ্রস্ত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন জনের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। হৃদয়ের একটি গরুর খামার ছিল। খুরা রোগে একটি গরু মারা গেলে অপর ৭-৮টি গরু পানির দামে বিক্রি করে দেন। এতে করে অনেক টাকা নষ্ট হয় তার। ঋণের টাকার জন্য হৃদয় গাঢাকা দিয়ে থাকতে পারে। তা ছাড়া শ্বশুড় বাড়ির লোকজনের সাথে হৃদয়ের যোগাযোগ থাকতে পারে। কিন্তু তারা অস্বীকার করছেন।

হৃদয়ের শাশুড়ি বিলকিছ বেগম জানান, ১০ অক্টোবর দুপুরে মেয়ে ও জামাই তার বাড়িতে আসেন এবং ওই দিন সন্ধায় খাওয়া-দাওয়া শেষে আবার তারা বাড়িতে চলে যান। ফোন বন্ধ থাকায় মেয়ে-জামাইয়ের সাথে যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না। মেয়ে-জামাইয়ের খোঁজ না পেয়ে তারাও থানায় জিডি করেছেন। তা ছাড়া মেয়ে-জামাইয়ের বাড়ি থেকে জামা কাপড় এলইডি টিভি নিয়ে আসা হয়নি। শুধুমাত্র ভ্যানে করে খড় নিয়ে আসা হয়েছে। 

থানার ওসি আজিম উদ্দীন জানান, নিখোঁজ সেনাসদস্যের খোঁজ জানতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা