kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত জাহাঙ্গীরের

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি   

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ১২:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত জাহাঙ্গীরের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে মেধাতালিকায় সুযোগ পাওয়া মেধাবী জাহাঙ্গীর মিয়ার ভর্তি হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। এ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন বিভাগে ভর্তির সুযোগ পায় জাহাঙ্গীর। সে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার হুড়াভায়া খাঁ গ্রামের রাহেদুল ইসলাধমের ছেলে। তার বাবা ইট ভাঙা শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালায়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও দরিদ্রতা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মেধাবী জাহাঙ্গীরের সামনে। উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে বড়। পরিবারে অভাবের ছাপ থাকলেও কোনো বাধা দমিয়ে রাখতে পারেনি তাকে। অদম্য মেধাবী জাহাঙ্গীর জয় করেছে সকল প্রতিবন্ধকতা। ২০১১ সালে পিইসি পরীক্ষায় হুড়াভায়াখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে সমাপনী শেষ করেন। ২০১৪ সালে সুন্দরগঞ্জ আ. মজিদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসিতে গোল্ডেন প্লাস পায়। এরপর ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করে। ২০১৭ সালে একই বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে (বিজ্ঞান বিভাগ) জিপিএ ৫ লাভ করেন। এরপর সুন্দরগঞ্জ ডি ডাবলু সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে (মানবিক বিভাগ) জিপিএ ৪.২৫ পয়েন্ট পায়।

তারপর শুরু হয় জাহাঙ্গীরের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন। ছাত্র জীবনের শুরু থেকেই সংগ্রাম করে এ পর্যন্ত এসেছে সে। দারিদ্র্যতার কারণে টিউশন করে পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যায় জাহাঙ্গীর। চলতি বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'বি' ইউনিটে অংশ গ্রহণ করে মেধাতালিকায় ১৮৭১ স্থান অর্জন করেন। এ ছাড়াও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে আই ইউনিটে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বি' ইউনিটে অংশ নিয়ে মেধাতালিকার ১৫৩তম স্থান পায়। কিন্তু মেধাবী জাহাঙ্গীর মিয়ার উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দরিদ্রতা।

অন্যদিকে, একসময় অভাবের তাড়নায় পড়াশোনা বন্ধ হতে বসে জাহাঙ্গীরের। পড়ালেখা বন্ধ করে দিয়ে অভাবি সংসারের হাল ধরতে ঢাকার গার্মেন্টে যেতে বলে দিনমজুর বাবা। কিন্তু তার পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ দমিয়ে রাখতে পারেনি। তবে, পড়ালেখার খরচ চালাতে যখন দিনমজুর বাবাকে হিমশিম খেতে হয়েছে তখন এক কোচিংয়ের শিক্ষক পাশে দাঁড়ায় জাহাঙ্গীরের। বিনাখরচে কোটিং ও টিউশন করান তিনি। দেলোয়ার হোসেন নামের ওই শিক্ষক জাহাঙ্গীরের জন্য পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত কোচিংয়ের ক্লাস শুরু করেন। এরপর উচ্চমাধ্যমিকে সব সহপাঠী যখন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করছে তখনও জাহাঙ্গীর উচ্চশিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায়। বাড়িতে বসে পুরনো বড় ভাইদের ভর্তি গাইড পড়ে প্রস্তুতি নেয় সে। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাতালিকায় সুযোগ পায়। কিন্তু আর্থিক সমস্যা এখন বড় বাধা তার।

মেধাবী জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছি। স্বপ্ন দেখেছি বড় হয়ে দেশের সেবা করব। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও টাকার জন্য ভর্তি হতে পারছি না। এতে উচ্চশিক্ষা নিয়ে আমি শঙ্কিত।

জাহাঙ্গীর মিয়ার দিনমজুর বাবা রাহেদুল ইসলাম বলেন, আমার অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। সেখানে ছেলের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা জোগাড় করা অসম্ভব। আমার ছেলে অনেক পরিশ্রম করে বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু টাকার অভাবে ওর বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার স্বপ্ন নষ্ট হতে বসেছে। তিনি সমাজের বৃত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন।

মেধাবী জাহাঙ্গীরের সাথে যোগাযোগ ও সাহায্য পাঠাতে চাইলে ০১৭০৫৪৪৫১৮৮ (জাহাঙ্গীর) ও ০১৯৬৫১৩৯২৪০ (বাবা) নাম্বারে পাওয়া যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা