kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কেরানীগঞ্জে সমবায় সমিতির এমডির আত্মহত্যার অভিযোগ

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:৪৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কেরানীগঞ্জে সমবায় সমিতির এমডির আত্মহত্যার অভিযোগ

প্রতীকী ছবি

কেরানীগঞ্জে সেবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির এমডি মো. মিজানুর রহমান (৪০) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে চড়াইল খালপাড় এলাকা থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহতের ছোট ভাই শফিকুর রহমান জানান, তার ভাইয়ের কেরানীগঞ্জে 'সেবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি' নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার ভাড়া বাসার নিচে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সে তার পরিবার নিয়ে চড়াইল খালপাড় এলাকায় জনৈক রেজাউল করিমের বাড়ির ৫ম তলায় ভাড়া থাকতেন। দুই রুমের বাসার একটিতে সন্তানরা থাকেন। অন্যদিকে থাকেন মিজানুর ও তার স্ত্রী। 

আমার ভাইয়ের স্ত্রী (আমার ভাবী) স্থানীয় বেসরকারি একটি হাসপাতালের নার্সের চাকরি করেন। সোমবার রাতে তার নাইট ডিউটি থাকায় তিনি হাসপাতালে ছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভাই মিজানুর রহমান দুই সন্তানকে নিয়ে খাওয়া-দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়েন।

নিহতের স্ত্রী জোবেদা নাহার জানান, মো. জুবায়ের রহমান (১৩) ও মো. জুনায়েদ রহমান (৪) এবং স্বামী মো. মিজানুর রহমানকে নিয়ে তার সংসার। স্বামীর ক্ষুদ্র  ঋণের ব্যবসা আর আমি নিজে চাকরিজীবি। বেশ কাটছিল আমাদের সংসার। কিছুদিন যাবৎ আমার স্বামীকে খুব চিন্তিত দেখাচ্ছিল। কিছু জিজ্ঞাসা করলে কোনো উত্তর দিত না। 

ঘটনার দিন রাতে আমার নাইট ডিউটি থাকার কারণে আমি আমার কর্মস্থলে চলে যাই। সকালে ডিউটি ছেড়ে বাসায় ফিরে স্বামীর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে ডাকচিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে আমার স্বামীর ঝুলন্ত লাশ দেখে থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে লাশ নিচে নামিয়ে আনেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, নিহত মিজানুর রহমান এমনিতে ভালো ছিল। হয়তো সমবায় সমিতি টাকা দিয়ে কোনো ব্যবসা করতে গিয়ে লছ খেয়েছে না হয় বড় কোনো কারণ ছাড়া তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন না। 

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই শ্যামল কুমার নন্দি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মিজানুরের লাশ উদ্ধার করে। খাওয়া-দাওয়ার পর সন্তানরা ঘুমিয়ে পড়লে পাশের রুমের জানালার হুকের সঙ্গে রাতের কোনো এক সময় তিনি শাড়ি কাপড়ের পাইড় দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। লাশ ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবসা করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, আর্থিক কোনো ঝামেলার কারণে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন। 

এ ব্যাপারে নিহতের ছোট ভাই মো. শফিকুর রহমান বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা