kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলের হাতে স্কুলশিক্ষক বাবার মৃত্যু

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ২১:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলের হাতে স্কুলশিক্ষক বাবার মৃত্যু

গাজীপুরের শ্রীপুরে চাহিদা মতো টাকা না দেওয়ায় স্কুলশিক্ষক বাবাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছেন বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।

স্বজনরা জানিয়েছে, শারীরিক প্রতিবন্ধী ওই স্কুলশিক্ষককে পেটানোর পর নিস্তেজ হয়ে পড়লে জাতীয় জরুরি সেবার হটলাইন নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশকে ঘটনা জানায় ছেলে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই স্কুলশিক্ষককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের নাম আবদুল ওয়াদুদ বাবুল (৫৫)। তিনি ওই গ্রামের মৃত আবদুর রশিদ মাস্টারের ছেলে। আবদুল ওয়াদুদ বাবুল পাশের কাপাসিয়া উপজেলার তরগাঁও কোহিনূর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। হত্যায় অভিযুক্ত ছেলে ইমরান হাসমি রাতুল (২৪) রাজধানীর উত্তরা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।

ঘটনার পর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি দিয়েছেন ইমরান হাসমি রাতুল। তবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আজ বিকেল পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।

স্বজনরা আরো জানায়, আবদুল ওয়াদুদ বাবুলের একমাত্র ছেলে রাতুল। রাতুল খুবই মেধাবী ছাত্র। তাই আবদুল ওয়াদুদ বাবুলের স্বপ্ন ছিল তার ছেলে আদর্শবান শিক্ষক হবে। আবদুল ওয়াদুদ বাবুলের বাবা মৃত আবদুর রশিদও ছিলেন শিক্ষক। তাই ব্যয়বহুল জেনেও ছেলের চাহিদা মতোই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করেন। আর টাকার জোগান দিতে শিক্ষকতার পাশাপাশি পাশের বাজারে ওষুধের ব্যবসাও করতেন ওয়াদুদ বাবুল।

গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খোরশীদ আলম রফিক প্রধান জানান, ওয়াদুদ বাবুলের একটি পা ছিল না। কৃত্তিম পা লাগিয়ে চলাফেরা করতেন। তিনি চাইতেন, তার ছেলে যেন বিপথগামী না হন। তাই সবসময় ছেলের হাতে হিসেব করে টাকা দিতেন।

তিনি আরো জানান, সোমবার রাতে ওয়াদুদ তার ছেলেকে হিসেব করে টাকা দিলেও অতিরিক্ত আরো দশ হাজার টাকা দাবি করেন রাতুল। তা নিয়ে রাত ১২ টার দিকে তর্কে জড়িয়ে পড়েন তারা। একপর্যায়ে রাতুল রড দিয়ে তার বাবার মাথায় আঘাত করে। ওই সময় ওয়াদুদ লুটিয়ে পড়লেও রড দিয়ে পেটায় রাতুল। পরে বাবার নিস্তেজ অবস্থা দেখে রাতুল নিজেই তাৎক্ষণিক জাতীয় জরুরি সেবার হটলাইন নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেন।

শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান জানান, ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থল যাওয়ার পর রাতুল পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে। ওই সময় ওয়াদুদ বাবুলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জয়নব সুলতানা জানান, মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওয়াদুদ বাবুলের মৃত্যু হয়।

শ্রীপুর থানার ওসি লিয়াকত আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান হাসমি রাতুল তার বাবাকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত (বিকেল সাড়ে ৫টা) থানায় মামলা হয়নি। তিনি দাবি করেন, মামলা প্রক্রিয়াধীন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা