kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ইউএনওর সরকারি গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রির সময় ধরা পড়ল চালক

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ১৮:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইউএনওর সরকারি গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রির সময় ধরা পড়ল চালক

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি গাড়ির যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রির সময় গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে ধরা পড়েন বোরহান উদ্দিন ওরফে সবুজ (৩০) নামে ইউএনওর এক ব্যক্তিগত গাড়ির চালক। জেলা প্রশাসককে জানানোর পরও কোনো প্রকার ব্যবস্থা না নেওয়ায় গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে-পায়ে ধরে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করায় চালক সবুজকে ছেড়ে দেন তাঁরা।

সাংবাদিক শাহাদত হোসেন জানান, রবিবার রাত ৮টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরের ভেতর থেকে নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যক্তিগত চালক বোরহান উদ্দিন ওরফে সবুজ ইউএনওর ব্যবহৃত খয়েরী রংয়ের সরকারি গাড়ি (বগুড়া-ঘ-১১-০০৬৪) চালিয়ে বগুড়া শহরের দিকে রওনা দেন।

সম্প্রতি নির্বাহী কর্মকর্তাকে সরকারি কাজে ব্যবহার করার জন্য নতুন গাড়ি দেওয়া হয়েছে। পুরাতন গাড়ি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়ার কথা। এর মধ্যেই ইউএনওর বদলি আদেশ হওয়ায় চলতি সপ্তাহে তার নতুন কর্মস্থলে যাওয়ার কথা রয়েছে। এমতাবস্থায় ইউএনওর ব্যক্তিগত চালককে ওই পুরাতর গাড়ি দ্রুতগতিতে চালিয়ে নিয়ে যাওয়া দেখে সন্দেহ হয়। পরে গোপন সংবাদে খবর পেয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিকস মিডিয়ার কর্মীদের সাথে নিয়ে বগুড়া শহরতলির কলোনি এলাকায় জামিল মাদরাসার সামনে শাহিন ওয়ার্কসপে গিয়ে গাড়ির তেল, ফ্যান, মনিটর ও ব্যাক ক্যামেরাসহ বেশ কয়েকটি যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রির প্রস্তুতিকালে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এ সময় গাড়ির চালক সবুজ তার ভুল স্বীকার করে গণমাধ্যমকর্মীদের হাতেপায়ে ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন ইউএনও স্যার তাকে পাঠিয়েছেন। এরপর জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানানো হয়। জেলা প্রশাসক লোক পাঠানোর কথা বললেও যথাসময়ে কেউ ঘটনাস্থলে পৌঁছাননি।

ওয়ার্কসপের মালিক শাহিন আলম জানান, ওই সময় এশার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে গ্যারেজে এসে লিফটের (গাড়ি ধোয়ার উচু জায়গা) ওপর ইউএনওর গাড়ি দেখতে পান। পাশে বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে গাড়ির ছবি তুলতে দেখেন। এ সময় চালক সবুজকে গাড়ি নিয়ে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে গাড়ি ওয়াশ করবে বলে জানায়। এর মধ্যে গ্যারেজের কর্মচারীর সহযোগিতায় গাড়ির ব্যাক ক্যামেরাসহ মনিটর ও ড্রাইভিং সিটের ওপরে থাকা ফ্যান খুলে ফেলেন গাড়িচালক সবুজ। এ সময় ফ্যান ও মনিটর খোলার কারণ জানতে চাইলে সাংবাদিকদের সামনেই চালক সবুজ জানান স্যার খুলতে বলেছেন। এ ঘটনা জানাজানি হলে সামাজিক গণমাধ্যমসহ সচেতন মানুষের মাঝে কৌতূহল সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি ইউএনওর এমন কর্মকাণ্ডে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

সোমবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফুয়ারা খাতুনের সাথে তার সরকারি মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা