kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন ওঁরা

হিলি প্রতিনিধি    

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ১২:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন ওঁরা

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাধীন 'জমি আছে ঘর নেই' প্রকল্প কর্মসূচির আওতায় দিনাজপুরের হাকিমপুরে নতুন ঘর পেয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন গৃহহীন, অসহায় ও দুস্থ মানুষেরা। সেই সাথে নতুন দোকানঘর পেয়ে তারাও ভালোমতো বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। 

উপজেলার আলীহাট ইউনিয়নের ইসবপুর গ্রামের বাসিন্দা রাবেয়া বেগম (৭৫)। ২৭ বছর আগে স্বামী হারিয়েছেন, সহায়-সম্বলহীন রাবেয়া ৩ ছেলে ২ মেয়েকে নিয়ে দুচোখে অন্ধকার দেখতে শুরু করেন। স্বামীর রেখে যাওয়া একটুকুরো ভাঙাচোরা বাড়িতে ঠাই হলেও ৫ বছর আগে ছোট ছেলে খালেককে নিয়ে আলাদা হতে হয় রাবেয়া বেগমকে। কৃষিশ্রমিক খালেক, মা রাবেয়া বেগম এবং স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে গ্রামের পাশেই ভাঙাচোরা দুই ঘরের এক বাড়িতে আশ্রয় নেন। রাবেয়া বেগমের আশ্রয় হয় গোয়ালঘরে। গোয়ালঘরের এক কোণে বাঁশের তৈরি মাচায় থাকেন রাবেয়া বেগম, সেই ঘরের পূর্ব পাশেই থাকত গরু। গরুর প্রস্রাব-পায়খানার গন্ধে দীর্ঘদিন থেকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। 

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকার প্রকল্পের অধীনে একটি টিনের নতুন ঘর পেয়েছেন রাবেয়া বেগম। নতুন ঘরে নাতিদের নিয়ে সুখে-শান্তিতে রয়েছেন রাবেয়া বেগম। 

তেমনি দোকানঘর পাওয়া পাউশগাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ওই বছরেই মাইন বিস্ফোরনে পা হারান। দুই ছেলে ১ মেয়ে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন, কষ্টের কারনে সন্তানদের লেখা পড়া করাতে পারেননি। ২০০৪ সালে বড় ছেলে বিয়ের পর আলাদা হয়ে যান। ছোট সন্তানকে নিয়ে আরো বিপদে পড়েন তিনি। ছোট ছেলে খড়ির আড়তে কাজ করে কোনোরকমে হাল ধরের সংসারের। সরকার পণ্যসহ নতুন দোকন দিয়ে তাকে নতুন জীবন দিয়েছে। বর্তমানে দোকানের বেচাকেনা দিয়ে অনেকটা ভালোভাবে দিন কাটছে নুরুল ইসলামের। তার মতো যারা নতুন ঘর ও দোকান পেয়েছেন তারা সকলেই শান্তিতে বসবাস করছেন, নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রাফিউল আলম বলেন, 'জমি আছে ঘর নেই' এমন কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৭৩ জন ঘরহীন ব্যক্তিকে নতুন ঘর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ১০ জন অসহায় ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছে পণ্যসহ দোকান। শত শত অসহায় লোকদের মাঝে ৮৩ জনকে বেছে নেওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন কাজ। নিজে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রতিটি গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে জমি ও ঘর পাওয়া ব্যক্তিদের বাছাই করেন। ঘর ও দোকান পাওয়া ব্যক্তিদের জীবনমানের আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা