kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ওসির নামে চাঁদা চাইতে গিয়ে কনস্টেবল আটক

মানসিক অসুস্থতার কারণে ছেড়ে দেওয়া হয়

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০৪:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ওসির নামে চাঁদা চাইতে গিয়ে কনস্টেবল আটক

মুন্সীগঞ্জে ওসির নামে চাঁদা চাইতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের শাকিল মোল্লা নামের এক কনস্টেবল। গতকাল সোমবার সকালে মুন্সীগঞ্জের লঞ্চঘাট এলাকায় বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স নামের একটি তেল বিক্রির দোকানে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁকে পুলিশে দেওয়া হয়। তবে মানসিকভাবে অসুস্থ দাবি করায় তাঁকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয় বলে মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে।

বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের পরিচালক আব্দুর রহমান রবিন জানান, সকালে তিনি দোকানে ছিলেন না। তাঁর ম্যানেজার ছিলেন। শাকিল মোল্লা নামের একজন সকালে এসে বলেন ওসি স্যার সালাম জানিয়েছেন, তিনি কিছু টাকা দিতে বলেছেন। সাদা কাগজে কিছু একটা লিখে ম্যানেজারকে দিয়ে ওই ব্যক্তি বলেন, আবার কেউ এলে এই কাগজটি দেখাবেন। ম্যানেজার মাত্র দোকান খুলছে জানিয়ে তাঁর বিকাশ নম্বর আছে কি না জানতে চান। এ সময় শাকিল বিকাশ নম্বর দিয়ে পাঁচ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন।

এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘আপনি তো পরিচিত তাই পাঁচ হাজার টাকা। এ সময় অন্য এক ব্যক্তি এ দৃশ্য দেখে কাছে এসে ওই কনস্টেবলকে বলেন, ‘চলেন আমরা থানায় যাই, কী হয়েছে দেখি।’ কিন্তু সে সময় শাকিল মোল্লা থানায় যেতে রাজি না হয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা তাঁকে আটক করে। এরপর শাকিল মোল্লা স্বীকার করেন তিনি পুলিশ কনস্টেবল, ঢাকার ডিএমপিতে আছেন। পারিবারিক অসচ্ছলতা ও অভাব-অনটনের কারণে তিনি এ কাজটি করেছেন। পরে স্থানীয় জনতা তাঁকে সদর থানায় নিয়ে যান। 

তিনি আরো জানান, তাঁর বাড়ি মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড় এলাকায়। তিনি সাসপেন্ড অবস্থায় আছেন বলে জানা গেছে।

মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খন্দকার আশফাকুজ্জামান জানান, ‘তিনি পুলিশের সদস্য। আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও পারিপার্শ্বিকভাবে বিভিন্ন সমস্যায় আছেন। দোকানে গিয়ে থানা থেকে এসেছি বলে টাকা দাবি করেন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি মুন্সীগঞ্জ। অনেক দিন ধরে অসুস্থ। তিনি পুলিশ বিভাগে অনেক দিন ধরে অনুপস্থিত। তবে সাসপেন্ড কি না জানি না। এ ব্যাপারে ঢাকায় জানানো হয়েছে।’

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি আনিচুর রহমান বলেন, ‘পুলিশ সদস্য শাকিল মোল্লা মানসিকভাবে অসুস্থ ও পারিবারিকভাবে অসচ্ছল। আমরা তাঁকে তাঁর বাবার জিম্মায় দিয়ে দিয়েছি। এ ছাড়া এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিটে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হবে, যাতে করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা