kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাস্তায় পড়ে থাকা শিশুটি পেল মায়ের পরশ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ২০:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাস্তায় পড়ে থাকা শিশুটি পেল মায়ের পরশ

পঞ্চগড় জেলা শহরের কামাতপাড়া এলাকায় পথে পাওয়া সাজানো নবজাতক কন্যা শিশুটির মা রিমু আক্তারকে খুঁজে পাওয়া গেছে। মিলেছে শিশুটির পুরো পরিচয়। শিশুটির নাম রাখা হয়েছে মোনালিসা।

আজ সোমবার বিকেলে ওই নারী পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের সিসিইউ ইউনিটে গিয়ে তার সন্তানকে কোলে তুলে নিয়ে আদর করেন। শিশুটি এখন সুস্থ আছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।

এর আগে ওই নারী ও তার বাবা আইবুল ইসলাম ও মা শিল্পি আক্তারকে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রথমে শিশুটির বয়স এক মাস ধারণা করা হলেও তার মা রিমু জানান শিশুটির বয়স মাত্র ১৬ দিন। স্বামীর সাথে দাম্পত্য কলহের জের ধরে শিশুটিকে পঞ্চগড়ে দত্তক দিতে চেয়েছিলেন ওই নারী। কিন্তু কেউ না নেওয়ায় তাকে রেখেই পালিয়ে যান বলে স্বীকার করেন।

গত ১৭ কামাতপাড়া এলাকার অশোক চন্দ্র মদকের বাড়ির সামনে ওই কন্যা শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখে ওই এলাকার জুয়েল ও তার মা জুলেখা খাতুন। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। তাৎক্ষণিক শিশুটির মায়ের নাম জানা গেলেও তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। হাসপাতালে সিসিইউতে পুলিশি পাহাড়ায় ভর্তি ছিলো শিশুটি। এর মধ্যে অনেক নিঃসন্তান দম্পত্তি শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য হাসপাতালে ভিড় করতে থাকে।

জানা যায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার ভিতরগড় এলাকার আইবুল ইসলামের মেয়ে রিমুর বিয়ে হয় পঞ্চগড় কামাতপাড়া এলাকার মাসুদের সাথে। পরে পার্বতীপুরের এক ট্রাকচালকের সাথে পালিয়ে যান রিমু। গত ২ অক্টোবর ওই কন্যা সন্তান প্রসব করেন রিমু। তার আগে আরেকটি ছেলে সন্তান রয়েছে তার। কিন্তু ওই কন্যা সন্তান প্রসবের পর তা নিয়ে স্বামীর সাথে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। নিরুপায় হয়ে শিশুটিকে দত্তক দেওয়ার উদ্দেশ্যে সাজিয়ে নিয়ে যান পঞ্চগড়ে। পঞ্চগড় কামাতপাড়া এলাকায় তার নানীর বাড়িতে শিশুটিকে রেখে যেতে চাইলে তারা নিতে রাজি হননি। পরে ওই এলাকার পেয়ারা মজুমদারসহ আরো কয়েকটি বাড়িতে শিশুটিকে দত্তক দিতে ব্যর্থ হয়ে এক গলিতে রেখে চলে যান রিমু। শিশুটিকে রেখে তার সাড়ে ৪ বছরের ছেলেকে নিয়ে ঠাকুরগাঁও রেলস্টেশনে ছিলেন। সেখান থেকে আটোয়ারী উপজেলার মালিগাঁও এলাকার আলেমা খাতুন নামের এক নারী তাকে নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেন। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে সোমবার পঞ্চগড়ে জেলা প্রশাসকের কাছে হাজির করে।

পঞ্চগড় সদর থানার ওসি (তদন্ত) জামাল হোসেন বলেন, শিশুটির মায়ের কথাবার্তা অসংলগ্ন। আপাতত হাসপাতালে তার সন্তানকে দেখভাল করার দায়িত্ব ওই নারী ও তার বাবা মাকে দেয়া হয়েছে। কয়েকদিন পুলিশি পাহাড়ায় তার আচরণবিধি লক্ষ্য রাখা হবে।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ওই শিশুটির মাকে পাওয়া গেছে। বর্তমান স্বামীর সাথে টানাপোড়েনের জেরে ওই নারী শিশুটিকে রেখে যাওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন বলে আমরা জেনেছি। টেলিভিশন ও পত্র পত্রিকায় জেলা প্রশাসক তার সন্তানকে কোলে তুলে নিয়েছে জেনে ওই নারীর বুকে মাতৃত্ব জেগে উঠেছে। সে এখন তার সন্তানকে ফিরে পেতে চায়। সে এখন তার সন্তানকে হাসপাতালে কয়েকদিন দেখাশুনা করবে। সেখানে বোঝা যাবে সে শিশুটি লালন পালনে যোগ্য কিনা। তারপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

উল্লেখ্য, গত ১৯ অক্টোবর কালের কণ্ঠে ‘সাজানো শিশুটি পড়ে ছিল রাস্তায়’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা