kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নবীগঞ্জের দিনারপুরে বেপরোয়া চান মিয়া বাহিনী

পূর্ব শত্রুতার জেরে শ্বশুর-জামাতাকে কুপিয়ে ক্ষত-বিক্ষত

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ১৯:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পূর্ব শত্রুতার জেরে শ্বশুর-জামাতাকে কুপিয়ে ক্ষত-বিক্ষত

হবিগঞ্জ নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের মামদপুর গ্রামে দুরুদ মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গাছের সাথে বেঁধে বেধরক মারধর ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেছে একই গ্রামের চান মিয়া ও তার লোকজন।

শ্বশুর দুরুদ মিয়াকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হামলার শিকার হন দুরুদ মিয়ার মেয়ের জামাতা বাবুল মিয়া(২৭)। আশংকাজনক অবস্থায় তাদেরকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সোমবার বিকেলে দুরুদ মিয়ার স্ত্রী মালা বেগম বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে নবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

স্থানীয় ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের মামদপুর গ্রামের বাসিন্দা দুরুদ মিয়ার সাথে চাঁন মিয়ার বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় দুরুদ মিয়া স্থানীয় বিয়ানীবাজারস্থ মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বাড়ির নিকটে পৌঁছামাত্রই চান মিয়ার নেতৃত্বে তার ছেলে ছমদ মিয়া ও ওয়াহিদ মিয়াসহকারে ৯-১০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দুরুদ মিয়ার ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায় এবং দুরুদ মিয়াকে গাছের সাথে বেঁধে লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে তাকে। এক পর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে দুরুদ মিয়াকে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে চান মিয়া বাহিনীর লোকজন।

এ সময় দুরুদ মিয়াকে বাঁচাতে তার মেয়ের জামাতা বাবুল মিয়া এগিয়ে আসলে চান মিয়া বাহিনীর লোকজন বাবুলের ওপর হামলা চালিয়ে বেধরক মারধর করতে থাকে। এক পর্যায়ে তাদের চিৎকারের স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে রক্তাক্ত দুরুদ মিয়া ও বাবুল মিয়াকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা বেঘতিক দেখে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। আহতদের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, প্রায় দেড় যুগ পূর্বে মামদপুরের আলোচিত আবদু মিয়াকে হত্যা করে বস্তাবন্দি করে লাশ ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অপরাধে আদালত চান মিয়ার পুত্র ও চান মিয়া বাহিনীর সদস্য আব্দুল আহাদকে যাবজ্জীবন সাজা প্রদান করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল আহাদ পলাতক রয়েছে।  এ ছাড়াও চান মিয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে বহু অপকর্মের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এদিকে দিনারপুরের বহু অপকর্মের হুতা ও সাম্প্রতিক সময়ে ফের বেপরোয়া হয়ে ওঠা চান মিয়া বাহিনীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুর রহমান এর সাথে করা হলে তিনি-বলেন, গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন ও কোপানোর ঘটনায় নবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি রেকডভুক্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা