kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বঙ্গবন্ধুর ছবি নিয়ে রাজনীতি : তদন্ত কমিটির মুখে এসেনশিয়াল ড্রাগস

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ১৫:০৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বঙ্গবন্ধুর ছবি নিয়ে রাজনীতি : তদন্ত কমিটির মুখে এসেনশিয়াল ড্রাগস

গোপালগঞ্জে ওষুধ প্রস্তুতকারী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কম্পানি লিমিটেডে (ইডিসিএল) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ভাঙচুরের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে কমিটির প্রধান এ্যাসেনশিয়াল ড্রাগস কম্পানির ব্যবস্থাপক (অ্যাডমিন) সাহাবুদ্দিন অন্য সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত কাজ শুরু করেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- উপ-ব্যবস্থাপক প্রশাসন (নিরাপত্তা) পলাশ কুমার ঠাকুর,গোপালগঞ্জ ইডিসিএল এর উর্দ্ধতন হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম ফারুখ, কনিষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী, কনিষ্ঠ বিক্রয় কর্মকর্তা খন্দকার মুছা। আগামী ৭ কার্য দিবসে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের এডমিন এন্ড এইচ আরএম এর মহা-ব্যবস্থাপক মোঃ সেলিম।

তদন্ত আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৭ অক্টোবর ইডিসিএল গোপালগঞ্জের প্লান্টের সিবিএ অফিসে টাঙ্গানো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি কে বা কাহারা ভেঙ্গে ফেলেছে। সে সময় কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিক কর্মচারী প্রকল্প এলাকার ভিতরে ও বাহিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরির মাধ্যমে এক সংকট সৃষ্টি করে এবং প্রকল্পের গেইটে তালা মেরে চাবি নিয়ে যায়। যা উক্ত প্রকল্পে কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এ ধরনের ঘৃণ্য বা জঘন্য কাজ কে বা কারা সংঘঠিত করেছে, তা উদঘাটনের জন্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই তদন্ত কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছেন। কমিটির তদন্তকালে ভাঙচুরের বিষয়ে কর্মচারী ইউনিয়ন ও কর্মকর্তারা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে।

এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানির গোপালগঞ্জ প্লান্টের উপ-ব্যবস্থাপক মাফিজুর রহমান শেখ বলেন,“এই প্লান্টে কর্মচারী ইউনিয়নের কোনো কমিটি নেই। কাজী ইউসুফ ও আজিজ চৌধুরীর নেতৃত্বে সিবিএ কর্মচারীরা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। তারা প্লান্টের মূল ভবনের সেন্ট্রাল ওয়্যার রুম দখল করে কর্মচারী ইউনিয়নের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। “

তিনি আরো বলেন, প্রকল্পের মেসিনারিজ বাহিরে থাকায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওই ভবন থেকে সিবিএ অফিস সরিয়ে নিতে বলা হয়। কিন্তু তারা রুম ছাড়েনি। তাই কম্পানির কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ওই রুমে প্লান্টের মেশিনসহ মালামাল ঢোকানো হয় এবং ওই রুমে তালা দিয়ে রুমের গেটে দুজন সিকিউরিটি বসানো হয়। এর কিছু সময় পরে ওই রুমের দেয়ালে টাঙ্গানো বঙ্গবন্ধুর ছবি ফ্লোরে ভাঙচুর অবস্থায় পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে- কেউ জাতির পিতার ছবি ভেঙ্গে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চেয়েছে। এ ঘটনায় তারা ওইদিন অফিসারদের অভিযুক্ত করে অবরুদ্ধ করে রাখে।

তবে এ ব্যাপারে সিবিএ নেতা কাজী ইউসুফ (এমএলএসএস) কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা জাতির পিতার ছবি ভাঙ্গিনি। যে শ্রমিকরা কর্মকর্তাদের নিদের্শে মেশিনারি মালামাল ভিতরে রেখেছিল তাদের অসাবধানতার কারণে ভাঙতে পারে। তবে কে ভেঙ্গেছে সেটা বলতে পারব না। তবে সিবিএ কোন কর্মী এ ঘটনার জন্য দায়ী নয়। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনার সময় ওই রুমের সামনে অফিসারদের পাহারাদার কর্মরত ছিলেন। রুমে তালা দেওয়ার প্রতিবাদে আমরা গেট বন্ধ করে প্রতিবাদ করেছি সত্য। পরে আমরা সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেখান থেকে চলে আসি। তদন্তে আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আমরা সবাই ওনাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি।

এ বিষয়টি নিয়ে কথা বললে অপর শ্রমিক নেতা আজিজ চৌধুরী বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশে আমি এবং কাজী ইউসুফ এখানকার শ্রমিকদের দেখভাল করি। আমরা ওয়্যার হাউজের ওই কক্ষটিতে দীর্ঘ ৮ মাস যাবৎ বসি। হঠাৎ করে গত ১৭ অক্টোবর তারিখে আমাদের সকল মালামাল বাইরে বের করে দিয়ে কর্মকর্তারা ওই রুমে প্লান্টের মেশিনসহ মালামাল ঢোকায় এবং ওই রুমে তালা দিয়ে রুমের গেটে দুজন সিকিউরিটি বসিয়ে দেয়। এর কিছু সময় পরে ওই রুমের দেয়ালে টাঙ্গানো বঙ্গবন্ধুর ছবি ফ্লোরে ভাংচুর অবস্থায় পাওয়া যায় ।

এ ব্যাপারে তদন্তের অগ্রগতি জানতে তদন্ত কমিটির প্রধান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানির ব্যবস্থাপক (অ্যাডমিন) সাহাবুদ্দিনকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

প্রসঙ্গত , গত বৃহস্পতিবার বিকেলের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা অবরুদ্ধ করে রাখে কর্মকর্তাদের। সন্ধ্যায় পুলিশ গিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্ধার করে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা