kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পাকা সড়ক ভেঙে হারালো নদীতে

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি    

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ১০:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাকা সড়ক ভেঙে হারালো নদীতে

বগুড়ার ধুনট উপজেলার চিকাশি ইউনিয়নের সোনারগাঁ-গজারিয়া পাকা সড়কের প্রায় ১০০ মিটার অংশ ভেঙে মানাস নদীতে বিলীন হয়েছে। ফলে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম বিপর্যয় ঘটেছে। 

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চিকাশি ইউনিয়নের সোনারগাঁ তিন মাথা মোড় থেকে গজারিয়া গ্রামের মাঝপথ দিয়ে একটি সড়ক রয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির পাশ দিয়ে বহমান মানাস নদী। এই সড়কের ৫০০ মিটার অংশ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে ২০১৮ সালের ৩০ মার্চ পাকা করণের কাজ শেষ হয়েছে। এই সড়কটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে ২৪ লাখ টাকা।

আজ সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, সড়কটির পূর্বপাশে মানাস নদী। পশ্চিম পাশে পুকুর। এ কারণে পাকা সড়ক নির্মাণের সময় ভাঙনরোধে দুই পাশেই প্যালাসাইটিং নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্ত কয়েক দিন আগে অতি বৃষ্টিপাতের ফলে নদী ও পুকুর পানিতে ভরে গিয়ে প্যালাসাইটিং দেবে গেছে। ফলে দুই পাশের মাটি ধসে পাকা সড়কটি ভেঙে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয় এসেছে।

সড়কটি নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ চরম বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে এলাকার অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষ যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। স্কুলগামী শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সবাই অনেক কষ্ট করে হেঁটে কোনোরকমে গন্তব্যে যাচ্ছে। যেখানে সড়কটি ভেঙেছে সেখানে মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে এখানকার মানুষদের জন্য এটি স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল করিম বলেন, নদীর পাড় দিয়ে রাস্তা হওয়ায় এমনিতেই অনেক ঝুঁকি নিয়ে যাওয়া-আসা করতে হয়। এরপর রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় অনেক কষ্ট করে আমাদের স্কুলে যেতে হচ্ছে। আমাদের শিক্ষার্থীও অনেক কষ্টে স্কুলে আসছে। রাস্তাটি দ্রুত মেরামত না হলে এলাকার শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসা বন্ধ করে দেবে। ফলে তাদের লেখাপড়ার অনেক ক্ষতি হবে। এর একটা স্থায়ী ব্যবস্থা করা দরকার।

গজারিয়া গ্রামের অটোভ্যান চালক আব্দুল মজিদ বলেন, উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বিকল্প কোনো সড়ক নেই। তাই বাধ্য হয়ে এই ভাঙা সড়ক দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পরিবহন করছি। তবে সড়কের ভাঙা স্থানে যাত্রী নেমে দিয়ে কষ্ট করে পার হয়ে আবারো যাত্রী উঠানো হয়। এভাবেই ভ্যান গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি।

ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, সড়ক নির্মাণের সময় ভাঙনরোধে প্যালাসাইটিং তৈরি করা হয়েছিল। কিন্ত অতি বর্ষণে নদীতে পানির প্রবল চাপে প্যালাসাইটিংসহ সড়কের পাশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সড়কটির ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থাসহ ভাঙনের  স্থানগুলো জরুরিভাবে মেরামত করা হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা