kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুর রৌফ চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০৮:৩৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুর রৌফ চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ভাষা সৈনিক, সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মরহুম জননেতা আব্দুর রৌফ চৌধুরীর ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে আজ ২১ অক্টোবর। রাজনীতির প্রাণপুরুষ মরহুম এই নেতাকে স্মরণ করতে মৃত্যুবার্ষিকীতে নেয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি।

মরহুম জননেতা আব্দুর রৌফ চৌধুরী ১৯৩৭ সালে ২৮ ডিসেম্বর সেতাবগঞ্জ ধনতলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০৭ সালের ২১ অক্টোবর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নির্বাচন

মরহুম জননেতা আব্দুর রৌফ চৌধুরী ১৯৮৯ সালে বোচাগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে দিনাজপুর-১ আসন (বীরগঞ্জ-কাহারোল) থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

রাজনৈতিক জীবন

উচ্চ মাধ্যমিক পড়ার সময়েই তিনি ছাত্র নেতা ছিলেন। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই তিনি দিনাজপুর এস.এন কলেজের ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিত্ব করেন। পাকিস্তান আমলে বৃহত্তর দিনাজপুর (বর্তমান দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় ) জেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পরপরই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আব্দুর রৌফ চৌধুরী। ১৯৯৬ এর পূর্ববর্তী সময়ে দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন একাধারে ১৫ বছর। ২০০২ সালে জোট সরকারের শাসনামলে ১৫ আগস্ট সেতাবগঞ্জে জাতীয় শোক দিবস কর্মসূচীতে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। এরপর দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থেকে সুস্থ হয়ে ওঠেন।

আন্দোলন

১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন তিনি। ৭৫ পরবর্তী সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে সামনের কাতারে নেতৃত্ব দেন।

মুক্তিযুদ্ধ

আব্দুর রৌফ চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধকালে মুজীবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের দূত হিসেবে ছিলেন পূর্বাঞ্চলীয় জোনে। সেইসঙ্গে বোচাগঞ্জ উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বোচাগঞ্জ উপজেলাকে পাক-হানাদার মুক্ত হয়।

ক্রীড়াজীবন

৫০ থেকে ৬০-এর দশকে ফুটবল খেলায় দিনাজপুরের জন্য অনেক সুনাম বয়ে এনেছিলেন তিনি। তৎকালীন স্থানীয় ডি.এস.এ দলের অপরিহার্য খেলোয়াড় ছিলেন এবং দিনাজপুর ডি.এস.এ দলের হয়ে রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, পাবনা, রাজশাহী জেলায় নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জয়ের মুকুট ছিনিয়ে নিয়ে আসেন। সেই সময় উত্তরবঙ্গের সেরা ফুটবলার হিসেবে বিবেচিত হয়ে ছিলেন।

খেলোয়াড়ের পাশাপাশি তিনি সফল ক্রীড়া সংগঠকও ছিলেন। তার নির্দেশনায় অনেক কৃতী খেলোয়াড় গড়ে ওঠেন।

বোচাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও আব্দুর রৌফ চৌধুরী ফাউন্ডেশনের কর্মসূচি

প্রতিমন্ত্রী মরহুম আব্দুর রৌফ চৌধুরী’র ১২ তম মৃত্যুবার্ষিকী দিবসটি পালনে বোচাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও আব্দুর রৌফ চৌধুরী ফাউন্ডেশন পৃথকভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

মরহুম আব্দুর রৌফ চৌধুরী’র ছিলেন একজন কোমল হৃদয়ের মানুষ। তিনি কখনো কারো দুঃখ-কষ্ট দেখে থাকতে পারতেন না। তিনি একজন দানশীল ব্যক্তি ছিলেন। বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার রাজনীতিতে তাঁর অপরিসীম ভূমিকা ছিল। আজকে তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরি একমাত্র ছেলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি।

এদিকে মরহুম জননেতা আব্দুর রৌফ চৌধুরী’র ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালনে বোচাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

বোচাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল ৮টায় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা ,কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাচ ধারণ, সকাল ৯টায় মরহুমের সমাধিতে শ্রদ্ধাজ্ঞলি অর্পণ, সকাল ১০ টায় মরহুমের সমাধিস্থলে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও ২২ শে অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১১টায় আব্দুর রৌফ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে স্মরণসভার আয়োজন করেছে।

অপরদিকে আব্দুর রৌফ চৌধুরী ফাউন্ডেশন ২১ অক্টোবর, সোমবার সকাল ৯টায় মরহুমের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, সকাল ১০ টায় মরহুমের সমাধিস্থলে দোয়া মাহফিল ও সকাল ১১টায় সেতাবগঞ্জ ডাকবাংলায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা