kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সীতাকুণ্ডে ডা. খুনের ঘটনায় স্ত্রীর মামলা : দুই দিনেও গ্রেপ্তার নেই

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০২:৩৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সীতাকুণ্ডে ডা. খুনের ঘটনায় স্ত্রীর মামলা : দুই দিনেও গ্রেপ্তার নেই

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহআলম খুনের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। নিহতের স্ত্রী ওমারানা আজমিরী শিকদার কান্তা শনিবার মামলাটি দায়ের করেন। এদিকে ডা. শাহআলম হত্যার দুই দিন পরও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ডের কুমিরা ইউনিয়নের ছোটকুমিরা গ্রামের মরহুম মাস্টার আজিজুল হকের ছেলে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহআলম সৌদি আরবে দীর্ঘ ৩০ বছর চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ছিলেন। কিন্তু তাঁর স্বপ্ন ছিল দেশের শিশুদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার। 

সেই লক্ষ্যে গত বছর দেশে এসে নিজ বাড়ি ছোটকুমিরায় বেবি কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি ক্লিনিক খোলেন তিনি। সেখানে রোগী দেখা শেষ হলে রাত ৯টার পর চট্টগ্রামের চান্দগাঁও এলাকার বাসায় ফিরতেন। প্রতিদিন রাতে তাঁকে গাড়িতে তুলে দিতেন ভাগ্নে ইজব হোসেন। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডা. শাহআলমকে গাড়িতে তুলে দেন তিনি। কিন্তু শাহআলমের ঘরে ফেরা হয়নি।

পরদিন শুক্রবার সকালে ক্লিনিক থেকে মাত্র এক-দেড় কিলোমিটার দূরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঢাকামুখী লেনের পাশে ডা. শাহআলমের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পায় এলাকাবাসী। কিন্তু তাঁর মুখমণ্ডল এসিডে দগ্ধ-বিকৃত ছিল। ফলে এলাকাবাসী তাঁকে শনাক্ত করতে পারেনি। তবে রাতে তাঁর আত্মীয়রা লাশটি দেখে ডাক্তার শাহআলমের বলে শনাক্ত করে। 

গত শনিবার লাশ দাফন নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। শাহআলমের ভাইসহ আত্মীয়রা চেয়েছিল তাঁকে নিজ গ্রাম ছোটকুমিরায় দাফন করা হোক। কিন্তু তাঁর স্ত্রী চেয়েছেন জানাজা এবং দাফন হোক চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে। শেষে স্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী চান্দগাঁওয়ে দাফন করা হয় ডা. শাহআলমকে। এরপর রাত ৯টার দিকে তাঁর স্ত্রী ওমারানা আজমিরী শিকদার কান্তা সীতাকুণ্ড থানায় এসে মামলা দায়ের করেন। ডা. শাহআলমের স্ত্রী ওমারানা আজমিরী শিকদার কান্তা বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা আমি বুঝতে পারছি না।’

সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) শামীম শেখ জানান, মামলায় নির্দিষ্ট কাউকে আসামি করা হয়নি। অজ্ঞাতপরিচয় কেউ তাঁকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে আসামি গ্রেপ্তার হবে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা