kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আসামিদের জবানবন্দি

চট্টগ্রামে পরকীয়ার জের, মেয়ে-স্বামী খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম    

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০২:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রামে পরকীয়ার জের, মেয়ে-স্বামী খুন

স্বামী ও মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করে গতকাল রবিবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম শফি উদ্দিনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন হাছিনা বেগম। একই দিন জবানবন্দি দিয়েছেন তাঁর কথিত প্রেমিক মাইন উদ্দিনও। আদালত দুই আসামিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। 

এর আগে জোড়া খুনের বিষয়ে নগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ। এতে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম জানান, নগরের বন্দর থানাধীন বুচুইক্কা কলোনির বাসায় গত শনিবার চার বছর বয়সী ফাতেমা তার মা হাছিনার সঙ্গে মাইন উদ্দিনকে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত অবস্থায় দেখে ফেলে।

ওই সময় হাছিনার স্বামী আবু তাহের বাসায় ছিলেন না। ফাতেমা বাবাকে বিষয়টি জানিয়ে দেবে বলার পর তার গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যা করেন হাছিনা ও মাইন উদ্দিন। ফাতেমার মৃতদেহ বিছানায় কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখেন তাঁরা। পরে হাছিনার স্বামী বাসায় ফিরলে তাঁর গলায় রশি পেঁচিয়ে পেটে-মাথায় ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তাঁর গলা কেটে ফেলা হয়। বাবা-মেয়েকে হত্যার পর মাইন উদ্দিন ওই বাসা থেকে পালিয়ে যান। আর হাছিনা নিজের রক্তমাখা কাপড় বদলে কান্না শুরু করেন। হাছিনার কান্নার শব্দে প্রতিবেশীরা এসে ওই ঘরে দুটি মরদেহ দেখে। 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে জেরার মুখে হাছিনা দাবি করেন, তাহের মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছে। হাছিনার ভাষ্য সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশ তাঁকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে হাছিনা স্বীকার করেন, তিনি ও মাইন উদ্দিন এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। 
মাইন উদ্দিন সম্পর্কে পুলিশ জানায়, একটি বাসাকে বোর্ড দিয়ে দুই কক্ষে ভাগ করা হয়েছিল। এর একটি কক্ষে তাহের ও অন্য কক্ষে মাইন উদ্দিন থাকতেন। হত্যাকাণ্ডের পর পলাতক মাইন উদ্দিনকে তাঁর নোয়াখালীর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মাইন উদ্দিন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে দাবি করেছেন, গত এক বছর আগে হাছিনার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তিনি। ফাতেমা ও তাহেরকে হত্যার পর আলাদাভাবে সংসার শুরুর পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী দুজনকে হত্যা করা হয়। 

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, তাহের ও হাছিনা দুজনেরই এটা দ্বিতীয় বিয়ে। পাঁচ বছর আগে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। দুজনেরই বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। এই সংসারেরই মেয়ে ফাতেমা।

বাবা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় তাহেরের ভাই মো. নুর আলম বাদী হয়ে বন্দর থানায় হত্যা মামলা করেন। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকান্ত চক্রবর্তী জানান, গ্রেপ্তারের পর হাছিনা ও মাইন উদ্দিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্ত শেষে বাদীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা