kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সীতাকুণ্ডে মহাসড়কে রোড ডাকাতের উৎপাত

অতিষ্ঠ গাড়ি চালকরা, কিছুই জানে না হাইওয়ে পুলিশ

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:১৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অতিষ্ঠ গাড়ি চালকরা, কিছুই জানে না হাইওয়ে পুলিশ

ভাই আমি নিজের ট্রাক নিজে চালাই, তবুও সংসার চালাতে পারছি না। পণ্য পরিবহন করতে গিয়ে রাত দিন মহাসড়কে থাকি। কিন্তু কষ্টের টাকা কেড়ে নিচ্ছে রোড ডাকাত-চোর আর পুলিশ! প্রচণ্ড আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ব্রাহ্মণবাড়িয়া গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে ট্রাকচালক মো. কাজল।

তিনি আরো বলেন, নিজের ট্রাক নিজে চালিয়ে যদি ছেলেকে কেজি স্কুলে পড়ানোর টাকা যোগাতে না পারি তাহলে আমরা কেমন সুখে আছি? এই ট্রাকচালক জানান, মহাসড়কে প্রতিনিয়তই হয়রানির শিকার হচ্ছেন তিনি। পণ্য ভাড়া নিয়ে যাতায়াতের পথে পথে হাইওয়ে পুলিশকে টাকা দিতে হয়। এছাড়া চোর-ডাকাত তো আছেই।

তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে তিনি ঢাকার কমলাপুর আইসিটি থেকে পণ্য বোঝাই তার ট্রাক (নং ঢাকা মেট্টো ট-১৮৭৯০৮) নিয়ে চট্টগ্রাম যান। ফেরার পথে সীতাকুণ্ডে বারআউলিয়া হাইওয়ে থানা থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত কবির স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড সংলগ্ন গামারীতলের একটি চাকা পাম্প করার দোকানে দাঁড়ান। কিন্তু শরীর ক্লান্ত থাকায় দিনের ১০টার দিকে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। পরে ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার গাড়ির সব তেল চুরি হয়ে গেছে। নিয়ে গেছে একটি অতিরিক্ত চাকাও। চাকা ও তেল মিলিয়ে অন্তত ২৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে তার।

তিনি বলেন, এসবের কারণে নিজের গাড়ি নিজে চালিয়েও সংসার চালাতে পারছি না। আপনারা প্রশাসনের ওপর মহলে এসব তথ্য জানান। একইভাবে সীতাকুণ্ডের এই জায়গায় মাঝ রাতে এসে ডাকাতদের খপ্পরে পড়েন আরেক লরি চালক মো. সুমন (৩২)। কুমিল্লার লাকসাম থানার লাকসাম গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে লরি চালক সুমন বলেন, তিনি ঢাকা থেকে মালামাল নিয়ে চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন। ফেরার সময় সীতাকুণ্ডের বারআউলিয়ার গামারীতল নামক স্থানে ওই দোকানে চাকায় হাওয়া দিতে দাড়ানোর কিছুক্ষণ পর তিন যুবক সেখানে এসে তার গাড়িতে (নং ঢাকা মেট্টো ড- ৮১৩৭৬০) উঠে সঙ্গে থাকা ভাড়ার টাকা কেড়ে নিতে চায়।

তিনি বাধা দেওয়ায় তাকে ও হেলপার ইমন (২২) রড দিয়ে মারধর করে শেষে প্রায় ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে এই গাড়িচালক বলেন, বিশ্বাস করুন আমার টাকাটা যে ডাকাতরা কেড়ে নিয়েছে সেকথা আমার গাড়ির মালিক বিশ্বাসই করছেন না। এভাবে কি গাড়ি চালানো যায়? মহাসড়কে পুলিশ সক্রিয় থাকলে এমন ঘটনা ঘটতে পারত না বলে অভিমত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রায় প্রতিদিনই এখানে কোনো না কোনো রোড ডাকাতি বা ছিনতাই-চুরির ঘটনা ঘটে। কিন্তু সেসব কাকে কে বলবে?

এদিকে শুধু এভাবে গাড়ির সর্বস্ব কেড়ে নেওয়া নয়। মহাসড়কে প্রায় রাতেই কার চালক কিংবা লেগুনা চালক-হেলপারের ছদ্মবেশে থাকা রোড ডাকাতরা যাত্রীদের টাকা-পয়সা লুটে নেন সুযোগ পেলেই। এমনকি কখনো কখনো বাধা পেলে হত্যার ঘটনাও ঘটাতে পিছু হয় না এসব ডাকাত দল। গত বৃহস্পতিবার রাতেও ছোটকুমিরা বাজার থেকে লেগুনায় উঠে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাবার সময় নির্মমভাবে খুন হন একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মো. শাহ আলম। 

এ ঘটনার পর বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে কুমিরা বাইপাস সড়কটি রোড ডাকাত ও চোরেদের আখড়া বলে বিভিন্ন তথ্য দিতে থাকেন স্থানীয়রা। এর আগে গত ৭ জুন কুমিরা বাইপাস যেখানে ডাক্তার শাহ আলমের লাশ মিলেছে ঠিক সেখানেই রোড ডাকাতির সময় র‌্যাবের সামনে পড়ে যাওয়ায় বন্ধুকযুদ্ধে দুই রোড ডাকাত র‌্যাবের হাতে নিহত হয়। এরপর কিছুদিন ডাকাতি বন্ধ থাকলেও আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে ডাকাত দল। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহাসড়কের দায়িত্বে থাকা কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, আমি মাত্র দুই মাস আগে এখানে যোগ দিয়েছি। এ সময়ে বড় কোনো ডাকাতি ঘটেনি। তবে ডা. শাহ আলমের লাশ দেখে নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এরপর থেকে আমি টহল আরো বৃদ্ধি করেছি। বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার ইনচার্জ ওসি মো. আওয়াল হোসেন বলেন, বারআউলিয়ার গামারীতলে এভাবে যে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে তা তিনি অবগত ছিলেন না। এখন থেকে ওই এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধিসহ ডাকাতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা