kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ডিসি ও চেয়ারম্যানের সহায়তায় মেধাবী লিটনের স্বপ্নপূরণ

মাগুরা প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ২২:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডিসি ও চেয়ারম্যানের সহায়তায় মেধাবী লিটনের স্বপ্নপূরণ

মাগুরা সদর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের দরিদ্র মেধাবী ছাত্র লিটন হোসেনের পাশে দাঁড়ালেন মাগুরা জেলা প্রশাসক আলী আকবর ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পঙ্কজ কুণ্ডু। লিটন এ বছর সিলেট ওসমানি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্তু দারিদ্রের কারণে সেখানে ভর্তি ও পরবর্তী লেখাপড়া নিয়ে সে ও তার পরিবার দুশ্চিন্তায় ভুগছিলো।

মাগুরা জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজ রবিবার লিটনের হাতে মেডিক্যালে ভর্তির জন্য ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা তুলে দেন। এ ছাড়া পরবর্তী সময়ের লেখাপড়ার ব্যয় বহনের আশ্বাস দেন তারা।

লিটন মাগুরা সদরের শ্রীরামপুর গ্রামের হতদরিদ্র সিরাজুল ইসলাম ও আলেয়া বেগমের ছেলে। এ ছাড়া মোরাল প্যারেন্টিং নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লিটনের লেখাপড়ার আংশিক খচর বহনের জন্য সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

সদরের হাজিপুর ইউনিয়নের শ্রীমন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুর জানান, লেখাপড়ায় লিটনের মেধার পরিচয় পেয়ে শিক্ষকরা তার লেখাপড়ার ভার নেন। লিটন হাটগোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ ৫ ও ঝিনাইদহ কেসি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৯২ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। লিটনের বাবা কৃষক সিরাজুল ইসলাম ৫ বছর আগে গাছ থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। পরিবারের বড় ভাই এর সামান্য কৃষি কাজে সংসার চালাতেন। মা আলেয়া বেগম মানুষের কাছ সাহায্য নিয়ে ছেলের লেখাপড়া খরচ জুগিয়েছেন। লিটনের একাগ্র প্রচেষ্টা ও এলাকার শিক্ষানুরাগী মানুষের সহায়তায় দিনরাত পরিশ্রম আর মেধার প্রকাশ হিসেবে সিলেট ওসমানি মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছে। 

লিটনের মা আলেয়া বেগম বলেন, আমার ছেলে লেখাপড়ার প্রতি খুব মনযোগী। মেডিক্যালে পড়ার সুযোগ পাওয়ার খবরে পারিবারিক অনটনের কারণে ওর লেখাপড়া নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। ডিসি সাহেব, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাহেব আমাদের পাশে দাঁড়ালেন। আমরা চিরদিন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবো। টাকার অভাবে যেন তার লেখাপড়া বাধাগ্রস্ত না হয় সেদিকে সবাই নজর রাখবেন।

জেলা প্রশাসক আলী আকবর বলেন, লিটনের মতো অদম্য মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য জেলা প্রশাসনের দ্বার সব সময় উন্মুক্ত। টাকার অভাবে তার লেখাপড়া যেন বিঘ্নিত না হয় সেদিকে আমরা সব সময় খেয়াল রাখছি।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ কুন্ডু জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার হিসেবে উন্নত আগামী গঠনে বর্তমান মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে শিক্ষা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। গরীব ও মেধাবী লিটন হোসেনের পাশে থাকতে পেরে আমরা গর্বিত। সে যেন একজন ভাল ডাক্তার হয়ে মানব সেবায় কাজ করতে পারে সেই দোয়া করি।

মেধাবী লিটন হোসেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, পরিবারিক অনটনের কারণে অনেক সময় দু’বেলা খেতেও পারিনি। কিন্তু লেখাপড়া কখনো ছেড়ে দিইনি। আর একাজে আমাকে সকল পর্যায়ের শিক্ষকবৃন্দ ও সমাজের দানশীল মানুষ যেভাবে সহযোগিতা করেছেন তাতে আমি ও আমার পরিবার কৃতজ্ঞ। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা