kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে বসতবাড়ি দখলের অভিযোগ

জামালপুর প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ২১:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে বসতবাড়ি দখলের অভিযোগ

অবৈধভাবে বসতবাড়ি দখলের অভিযোগে কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামালপুর পৌরসভার বামুনপাড়া ভুক্তভোগী মোছা. চায়না খাতুন ও তার পরিবার। আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জামালপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ তুলে ধরে চায়না খাতুন বলেন, জামালপুর পৌরসভার বামুনপাড়া এলাকার পাইনের মোড়ে তীর্থ চন্দ্রা মৌজায় তিনি ও তার পরিবার ১৫ শতাংশ জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসাবস করে আসছেন। বিগত ২০১১ সালের ১০ মে এম এইচ এম শামসুদ্দোহা ও জামালপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিজন কুমার চন্দসহ অনেকেই আমাদের বসতবাড়িতে ঢুকে হুমকি প্রদান করে। তারা তখন বসতবাড়িসহ জমি ক্রয় করে নেওয়ার কথা জানান। একই সাথে তারা আমাকে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্যও হুমকি দিয়েছিল। তাদের হুমকির ঘটনায় জামালপুর সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে ভুক্তভোগী চায়না খাতুন তার বাড়িতে বসবাস করে আসছেন।

ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উভয় পক্ষকে নোটিশের মাধ্যমে থানায় ডেকে নিয়ে কাগজপত্র পর্যালোচনা করেন। চায়না খাতুনের কাগজপত্র সঠিক থাকায় থানা কর্তৃপক্ষ বিবাদীদেরকে ওই বসতবাড়িতে যেতে নিষেধ করেন। কিন্তু এরপরও তারা ক্ষান্ত হননি। কয়েক বছর যাওয়ার পর ২০১৫ সালের ১০ জুন জামালপুর পৌরসভার ফুলবাড়ীয়া গ্রামের মৃত ছানোয়ার হোসেনের ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা আক্তারুজ্জামান মিস্টারসহ কয়েকজন আবারও বাড়িঘর দখলের হুমকি দেন।

একপর্যায়ে গতকাল শনিবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১ টার দিকে জামালপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিজন কুমার চন্দের নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ব ম জাফর ইকবাল জাফু ও সদস্য সরোয়ার হোসেন শান্তসহ বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী চায়না খাতুনের বসতবাড়িতে অতর্কিতভাবে হামলা করে। হামলাকারীরা ঘরের ভেতরে থাকা যাবতীয় আসবাবপত্র একটি ট্রাকে করে নিয়ে যায়। তাদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের অনেকেই এগিয়ে গেলেও ভয়ে তারা কোনো সহযোগিতা করতে পারেননি। পরে হামলাকারীরা ঘরের সামনের দেয়ালে সমমনা বহুমুখী সমবায় সমিতি লি. নামে একটি ব্যানার টাঙ্গিয়ে দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী চায়না খাতুন ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে বসতবাড়ি দখলমুক্ত করার দাবি জানান। চায়না খাতুনের ভুক্তভোগী পরিবারটি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে বসতবাড়ি ফিরে পেতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন।

এদিকে সমমনা বহুমুখী সমবায় সমিতিরি সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ব ম জাফর ইকবাল জাফু অভিযোগ প্রসঙ্গে কালের কণ্ঠকে বলেন, চায়না খাতুনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ওই জমি সমিতির নামে ক্রয় করা হয়েছে। ক্রয়সূত্রে জমির যাবতীয় কাগজপত্র আমাদের কাছে আছে।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা