kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

গাইবান্ধার নির্যাতিত জেলে হাসপাতালে, গ্রেপ্তার ৩

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ২০:০৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গাইবান্ধার নির্যাতিত জেলে হাসপাতালে, গ্রেপ্তার ৩

বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া এক বক্তব্যের জেরে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মৎস্যজীবি শম্ভু হাওলাদার (৩৮)। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় পুলিশ ৩ যুবককে আটক করেছে। তবে প্রধান অভিযুক্ত শাহিন মিয়া পলাতক।

সূত্র জানায়, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার একাধিক সরকারি জলাশয় ইজারা নিয়ে অনিয়ম ও দূর্নীতি বিষয়ে সম্প্রতি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার হয় বেসরকারি টেলিভিশনে। সেখানে  মহিমাগঞ্জ মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি শম্ভু হাওলাদার কথা বলেন। তিনি বলেছিলেন ‘জাল যার জলাভুমি তার’ এই শ্লোগান এখন পরিবর্তন হয়েছে। এখন ‘ক্ষমতা যার জলা তার’। এরকম মন্তব্যের কারণে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ক্ষুদ্ধ হন। শনিবার তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।

শম্ভু হাওলাদারকে মারপিটের ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় মহিমাগঞ্জ বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। তাঁরা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান। রবিবার জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ দেখা করেন পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্যের সাথে। তারা এ ঘটনার প্রতিকার দাবি করেন। পূজা উদযাপন পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি রনজিৎ বকসী সূর্য্যের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি তনয় দেব, সাধারণ সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর রিমন কুমার তালুকদার, সদস্য চঞ্চল সাহাসহ রংপুর মহানগরের নেতৃবৃন্দ।

আলোচিত এ ঘটনায় মামলা না হলেো পুলিশ রবিবার  ৩ যুবককে আটক করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি একেএম মেহেদী হাসান জানান, মৎস্যজীবি শম্ভু হাওলাদারকে মারপিটের সাথে জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন শিবপুর ইউনিয়নের শ্রীমুখ গ্রামের নুরুল আমিন চেংটুর ছেলে রাসেল (২৮), আব্দুর রশিদের ছেলে মোনারুল ইসলাম (৩০) ও আজাহারের ছেলে আনু মিয়া (৩৫)। অভিযুক্ত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আহত জেলে শম্ভু  এখন গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, 'আমি এক নিরীহ মানুষ । আমাকে খুব মারপিট করা হয়েছে। আমি হাঁটতে, দাঁড়াতে পারছি না। আমি হামলাকারীদের শাস্তি চাই।'
 
স্বজনরা জানান, শনিবার দুপুরে শম্ভুকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে কোচাশহর এলাকায় মারপিট করা হয়। শাখাহার ইউনিয়নের দইহারা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে শাহিন মিয়া ও তার সহযোগীরা শম্ভুকে বেদম মারপিট করে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা