kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাণীনগরে সোনালি মুরগি পালনে উজ্জ্বল সম্ভবনা

আত্রাই-রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ২০:০২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাণীনগরে সোনালি মুরগি পালনে উজ্জ্বল সম্ভবনা

নওগাঁর রাণীনগরে একই গ্রামে তিনজন খামারি ৩৩ হাজার সোনালি মুরগি পালন করছে। এ ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বল্প পরিসরে প্রায় ১০ হাজার মুরগি পালন করা হচ্ছে। রোগবালাই ও মৃত্যু ঝুকি কম হওয়ায় সোনালী মুরগি পালনে তেমন কোনো বিড়ম্বনায় পড়তে হয় না। বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা ও কাঙ্ক্ষিত বাজারদর থাকায় দিন দিন সোনালি মুরগি পালনের প্রসার ঘটছে এই উপজেলায়। বাচ্চার দাম ও বাজারমূল্য স্বাভাবিক থাকলে সোনালি মুরগি পালনের পরিধি আরো বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করছেন খামারিরা। পুরো উপজেলা মিলে বছরে সোনালি মুরগি থেকে প্রায় ২ শ মেট্রিকটন মাংস উৎপাদন হয় বলে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর বলছে।

জানা গেছে, উপজেলা সদরের সিম্বা গ্রামের মৃত আব্বাস আলী আকন্দ’র ছেলে আবু সাইদ টিংকু ও তার ছোট ভাই সানোয়ার হোসেন রিংকু গত প্রায় ১১ বছর আগে ব্রয়লার মুরগি পালন শুরু করে। বছর খানিক পর ব্রয়লারে লোকসান হওয়ায় স্বল্প পরিসরে সোনালি মুরগি পালন শুরু করে। রোগ-বালাই ও মৃত্যুঝুঁকি কম থাকায় এবং বাজারদর ভালো পাওয়ায় ধীরে ধীরে ব্যবসার পরিধি বাড়াতে থাকে। বর্তমানে তারা দুই ভাই আলাদা ভাবে মুরগি পালন করছেন। তাদের দেখে বেকারত্ব ঘোচাতে খামারি আবু সাইদের শ্যালক সোয়েব ইবনে প্রিন্স প্রায় ৩ বছর আগে সোনালি মুরগি পালন শুরু করেন। এই তিনজন খামারি বর্তমানে ৫টি ফার্মে প্রায় ৩৩ হাজার সোনালি মুরগি পালন করছেন। 

খামারি আবু সাইদ টিংকুর ২টি ফার্মে প্রায় ১৫ হাজার, সানোয়ার হোসেন রিংকুর ২টি ফার্মে ৮ হাজার ও সোয়েব ইবনে প্রিন্সের ১টি ফার্মে ১০ হাজার সোনালি মুরগি রয়েছে। বেশ কিছু দিনের মধ্যেই মুরগিগুলো খাওয়ার উপযোগী হয়ে উঠবে। খামারিরা এই মুরগিগুলো সাধারণত ৮ শ গ্রাম থেকে সাড়ে ৯ শ গ্রাম পর্যন্ত ওজন হলেই পাইকারদের কাছে বিক্রি করে থাকেন। 

সেই অনুপাতে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর বলছে, শুধুমাত্র সোনালী মুরগি থেকে চলতি বছরে রাণীনগর উপজেলায় ২ শ মেট্রিকটন মাংস উৎপাদনের সম্ভবনা রয়েছে। যা দেখে আগামীতে উপজেলায় সোনালি মুরগি পালনে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত যুবকরা উৎসাহী হবে এবং এই উৎপাদনের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন প্রাণিসম্পদ দপ্তর।  

স্থানীয় মুরগি খামারি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাণীনগর উপজেলায় সোনালি মুরগি পালন শুরুর দিকে বাচ্চার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৭ টাকা পিস। বর্তমানে তা বেড়ে ২৫ থেকে ৩২ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। বাচ্চা মুরগি প্রায় ৬৫ দিন থেকে ৭০ দিন পালন করলে ৮ শ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের হয়ে থাকে। যার খরচ হয় ১৭০ টাকা থেকে ১৭৫ টাকা পর্যন্ত (সর্বসাকুল্যে)। অধিকাংশ সময় পাইকারি বাজার মূল্য থাকে ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা পর্যন্ত। খুরচা বাজারে এই মুরগিগুলো ২১০ টাকা থেকে ২৩০ টাকা পর্যন্ত বেচা-কেনা হয়। খামারিরা বছরে ৪ থেকে ৫ বার মুরগির চালান তুলে থাকেন। মুরগি পালনে সব মিলে স্বল্প আয় হলেও রাণীনগর উপজেলার খামারিরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে এই মুরগির গাম্বুরা রোগের প্রাদুর্ভাবটা বেশি থাকে। বাচ্চা ক্রয়ের পর থেকে প্রতিরোধ ব্যবস্থা, মানসম্মত খাদ্য, সঠিক সময়ে খাবার প্রদান, ফার্মের উপযুক্ত আদ্রর্তা বজায়, সার্বক্ষিক নজরদারি ও প্রশিক্ষিত শ্রমিক থাকলে একই খরচে আরো অনেক অংশে মাংস উৎপাদন করা সম্ভব বলে খামারিরা জানান। 

উপজেলার সবচেয়ে বড় মুরগি খামারি আবু সাইদ টিংকু বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ এই ব্যবসার সাথে জড়িত থেকে লাভ-লোকসান দুটিরই দেখা পেয়েছি। ব্যবসা শুরুর দিকে প্রশিক্ষণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়ে বর্তমানে ব্যবসার পরিধি বাড়িয়েছি। 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, রাণীনগরে পোল্ট্রি শিল্পের উজ্জল সম্ভবনা রয়েছে। উপজেলায় হাঁস, মুরগি ও কবুতর থেকে মাংস উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তার চেয়ে বেশি মাংস উৎপাদন করছেন স্থানীয় খামারিরা। লক্ষ্যমাত্রার সিংহভাগ মাংসই সোনালি মুরগি থেকে উৎপাদন হচ্ছে। আগামীতে এর পরিধি আরো বাড়বে বলে আশা করছি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা