kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাস সংকটে দুর্ভোগে পবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

পবিপ্রবি প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ১৮:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাস সংকটে দুর্ভোগে পবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

পর্যাপ্তসংখ্যক বাস না থাকায় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। ভেতরে জায়গা না পেয়ে শিক্ষার্থীদের বাসের দরজায় ঝুলে ও ছাদে উঠে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আধ্যাপক ড. হারুনর রশিদ বলেন, শিক্ষার্থীদের পরিবহন সংকটের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। স্থায়ীভাবে পরিবহন সংকট দূর করতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে আমরা দুটি নতুন বাস কিনব। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। এখানে আটটি অনুষদের অধীনে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়ার জন্য মোট আটটি বাস আছে। এর মধ্যে পাঁচটি মিনিবাস এবং তিনটি বড় বাস। এই আটটি বাসের মধ্যে ছয়টি বাস মূল ক্যাম্পাসের জন্য বাকি দুটি বাইরের ক্যাম্পাসের জন্য। মূল ক্যাম্পাসের ছয়টি বাসের মধ্যে বড় দুটি বাস শিক্ষক এবং কর্মকর্তাদের জন্য এবং বাকি চারটি বাস শিক্ষার্থীদের জন্য। তিন হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য চারটি বাস যার মোট আসন সংখ্যা সর্বোচ্চ ১৫০টি। সেই হিসাবে সাড়ে সাত শ শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দ মাত্র একটি বাস। এ ছাড়াও বাসগুলো অনেক পুরাতন যার ফলে মাঝপথে ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। অনেকসময় শিক্ষার্থীদের ঠেলে ইঞ্জিন চালু করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির বাইরের ক্যাম্পাসের বাসের অবস্থা আরো খারাপ। বাইরের ক্যাম্পাসে দুটি মিনিবাস আছে যার একটা শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য এবং অন্যটি শিক্ষার্থীদের জন্য। প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য ৩০ আসনের একটি মাত্র বাস। যা অনেক সময় নষ্ট থাকে। যার ফলে শিক্ষার্থীদের বাইরের বাসে বরিশাল আসা-যাওয়া করতে হয়।

কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থীর জন্য আটটি বাস কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীরা অনেক সময় বাসে আসন না পেয়ে দাঁড়িয়ে, দরজায় ঝুলে এবং বাসের ছাদে উঠে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শিক্ষার্থীরা আরো জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা বাস থাকলেও কর্মচারীদের জন্য আলাদা বাস নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের বাসেই যাতায়াত করেন তারা। অনেক বহিরাগত এবং ক্যাম্পাসের আশপাশের স্কুল-কলেজ পড়য়া শিক্ষার্থীরাও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে যাতায়াত করেন। কিন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব বিষয়ে কখনো কোনো ব্যাবস্থা নেয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রী জানান, ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য একই বাস ব্যবহার করার নিয়ম থাকায় গাদাগাদি করে বাসে উঠতে গিয়ে অনেক সময় বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়। 

মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী সুমন হাওলাদার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পটুয়াখালীর দূরত্ব ১৭ কিলোমিটার এবং বরিশালের দূরত্ব ৩৪ কিলোমিটার। এত দূরের পথ দাঁড়িয়ে কিংবা বাসের দরজায় ঝুলতে ঝুলতে যাওয়া অনেক কষ্টকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা দ্রুত বাস সংকটের স্থায়ী সমাধান চাই।   

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, দুটি বাসের জন্য বাজেট বরাদ্দ রেখেছি ইউজিসি থেকে অনুমতি পেলে আগামী দুই মাসের মধ্যে আমরা বাস দুটি কিনতে পারব। যে সব গাড়িতে ত্রুটি আছে আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত মেরামত করার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা