kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অফিস আদেশে স্বাক্ষর থাকলে প্রত্যাখান

জাবি উপাচার্যের কুশপুত্তলিকা দাহ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ১৬:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাবি উপাচার্যের কুশপুত্তলিকা দাহ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও তার কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ। অফিস আদেশে উপাচার্যের স্বাক্ষর থাকলে সে আদেশ প্রত্যাখানের ঘোষণা।

আজ রবিবার (২০ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের সামনে থেকে 'দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর' ব্যানারে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে মিছিলটি নতুন কলা, পুরাতন ও নতুন প্রশাসনিক ভবন ঘুরে শহীদ মিনারের পাদদেশে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। সমাবেশ শেষে তারা জাবি উপাচার্যের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে এ সময় বলা হয়, অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম উপাচার্য হিসেবে আজ থেকে আর কোনো অফিস আদেশে স্বাক্ষর করতে পারবেন না। আজকের পর থেকে উপাচার্য হিসেবে কোনো অফিস আদেশে ফারজানা ইসলামের স্বাক্ষর থাকলে সেটি তারা প্রত্যাখান করে ছিঁড়ে ফেলবেন।

সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনিক বলেন, বর্তমান উপাচার্য জাবিকে এমন একটি বাজে অবস্থার দিকে পৌঁছে দিয়েছেন যে জাবি এখন এককেন্দ্রীক একটি বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে সকল বড় বড় প্রশাসনিক পদগুলো ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচলানা করা হচ্ছে। তিনি আজকের পর থেকে আর কোনো অফিস আদেশে স্বাক্ষর করতে পারবেন না- করলে আমরা সেটি গ্রহণ করব না।

অধ্যাপক খবির উদ্দিন বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে যখন দাহ করা হয় তখন আসলে আমরাও পুড়ে যাই। একজন মানুষকে পোড়ানো (দাহ্য) মানে সে শেষ। তার স্বাক্ষর করার কোনো ক্ষমতা জাবিতে নেই। ফারজানা ইসলাম আর জাবিকে আপনি অপমানিত অবনমিত করবেন না, আপনি বিদায় হন আমরা বেঁচে যাই জাবির সকলে বেঁচে যাক। না হলে আপনার পরিস্থিতি দিনে দিনে যেদিকে এগিয়ে যাচ্ছে আপনি নিজেও বুঝতে পারছেন না আপনার পরিণতি কি হবে।

দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, আমরা মহামান্য আচার্যকে চিঠি দিয়েছিলাম কিন্তু এখনো কোনো কিছু হয়নি ফলে আমাদের কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে হচ্ছে। আর তারই অংশ হিসেবে আমরা আজকে উপাচার্যের কুশপুত্তলিকা দাহ করছি। এর মাধ্যমে একজন দুর্নীতিবাজ, অনিয়মকারী, স্বেচ্ছাচারী, যৌন নিপীড়কের পৃষ্ঠপোষক উপাচার্যকে আমরা প্রত্যাখান করছি, এই ক্যাম্পাসে আমরা তাকে অস্বীকার করছি।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে 'দুর্নীতি ও অনিয়ম' এর অভিযোগে প্রায় দুই মাস যাবৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি, বাম ও আওয়ামীপন্থী (একাংশ) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে আসছে। নির্মিতব্য তিনটি হলের স্থান পুনর্বিবেচনাসহ দুটি দাবি মেনে নিলেও 'দুর্নীতি'র অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি মানছেন না উপাচার্য। এ কারণে গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর পদত্যাগ দাবি করে আসছেন আন্দোলনকারীরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা