kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাবি শিক্ষার্থী লিপু হত্যাকাণ্ড

'মামলার খরচ দিতে পারি না, তাই বিচারও পাই না'

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি    

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০৯:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'মামলার খরচ দিতে পারি না, তাই বিচারও পাই না'

নিহত রাবি শিক্ষার্থী লিপু।

প্রতি ওয়াক্ত নামাজ শেষে জায়নামাজে বসেই লিপুর জন্য চোখের জল ফেলেন মা হোসনে আরা বেগম। মাঝেমধ্যে লিপুর ছবি হাতে নিয়ে অপলক তাকিয়ে থাকেন। সংসারের কাজকর্ম করতে গিয়ে লিপুর কথা মনে হতেই কাতর হয়ে পড়েন সন্তানহারা এই মা।

২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবাব আব্দুল লতিফ হলের ড্রেন থেকে মোতালেব হোসেন লিপুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আজ ২০ অক্টোবর ঘটনার তিন বছর পূর্ণ হচ্ছে। সন্তানহারা লিপুর মায়ের আকুতি- লিপু হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। যাতে আর কোনো মাকে সন্তানহারা হতে না হয়। লিপু রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। 

গত শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে হোসনে আরা বেগমের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী চাইলে খুব দ্রুতই আমি সন্তান হত্যার বিচার পেতাম। আমরা গরিব মানুষ, ঝিনাইদহ থেকে রাজশাহী গিয়ে মামলার খোঁজ নেওয়া সম্ভব নয়, মামলা চালানোর জন্য খরচও লাগে। সেই খরচ দিতেও পারি না, বিচারও পাই না।'

জানা গেছে, মরদেহ উদ্ধারের দিন বিকেলে লিপুর চাচা বশির উদ্দীন বাদী হয়ে নগরীরর মতিহার থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর লিপুর রুমমেট মনিরুলকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। বর্তমানে জামিনে আছেন তিনি।

প্রথমে মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান রাজশাহী নগরীর মতিহার থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) অশোক চৌহান। ওই সময় তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন। এরপর ওই বছরই মতিহার থানার তদন্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলমকে মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি মামলাটি সিআইডির পরিদর্শক আসমাউল হকের কাছে আসে। সর্বশেষ গত বছরের সেপ্টেম্বরে আবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হলে দায়িত্ব পান সিআইডির আরেক পরিদর্শক আজিজুর রহমান।

কিন্তু এতবার হাত বদলের পরও ঘটনার রহস্য এখনও ধোঁয়াশাই রয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত চার্জশিটই দিতে পারেনি পুলিশ। কবে নাগাদ চার্জশিট দেওয়া হতে পারে সে বিষয়েও কিছু জানাতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা। এতে আদৌ ঘটনার বিচার হবে কি-না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন লিপুর স্বজনরা।

মামলার এই ধীরগতির কারণে বিচারের আশা অনেকটা ছেড়েই দিয়েছেন তাঁরা। তবে কেন লিপুকে মরতে হলো সেই কারণটি অন্তত জানতে চান লিপুর বাবা বদর উদ্দিন। তিনি বলেন, 'আমার ছেলের হত্যাকারী কে বা কারা- সেটা জানা দূরের কথা, কেন তাকে মারল সেটাও আজ পর্যন্ত জানা গেল না। আমরা বিচারের আশা কীভাবে করব?'

মামলার অগ্রগতি না হওয়ার পেছনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাফিলতি রয়েছে বলে মনে করছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি আ-আল মামুন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, 'লিপুকে হলের অভ্যন্তরে হত্যা করা হলো। কিন্তু এখনও কাউকে শনাক্ত করতে না পারার অর্থ প্রশাসনের গাফিলতি রয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করা খুব কঠিন কোন কাজ নয়। বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু হয়েছে, আমাদের এখান থেকে বেরুতে হবে। আমরা লিপু হত্যার বিচার চাই।'

জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন, 'এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত থেমে নেই।' খুব শিগগির মামলা সম্পর্কে সবকিছু জানা যাবে বলে জানান তিনি। খুব শিগগির বলতে আনুমানিক কতদিন লাগতে পারে জিজ্ঞেস করা হলে  তিনি নির্দিষ্টভাবে কোনো সময় উল্লেখ করেননি। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা