kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

হাতির পদভারে আতঙ্ক চা বাগানে

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ২০:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাতির পদভারে আতঙ্ক চা বাগানে

চা বাগানের এক টিলা থেকে আরেক টিলায় ছুটছে উন্মত্ত হাতি। ধাওয়া করছে কর্মরত শ্রমিকদের। দু'বছর আগে  এমনই এক হাতির আক্রমনে প্রাণ হারিয়েছেন দুজন। এ কারণে উন্মত্ত হাতিটি নিয়ে আতঙ্ক চা শ্রমিকদের মাঝে। হাতিটি গত চারদিন অবস্থান করছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মেরিনা চা-বাগান এলাকায়। সেখানে হাতির আক্রমনের ভয়ে শ্রমিকরা কাজে যেতে পারছেন না।

স্থানীয় সূত্র জানায়,  জয়চন্ডী ইউনিয়নের মেরিনা চা বাগানের ৯ নম্বর সেকশন এলাকায় গত মঙ্গলবার রাতে একটি হাতি অবস্থান করতে দেখা যায়।  সকালে শ্রমিকরা কাজে গেলে তাদের ধাওয়া করে হাতিটি। ভয়ে শ্রমিকরা টিলা থেকে নেমে অন্য টিলায় কাজ শুরু করেন। বৃহস্পতিবার সকালে বাগানের ১০, ১১ ও ১২ নম্বর সেকশনে শ্রমিকরা কাজে গেলে তারাও উন্মত্ত হাতির ধাওয়ার শিকার হন। শতাধিক শ্রমিক দৌড়ে গিয়ে চা বাগানের ব্যবস্থাপককে বিষয়টি জানান। গত ৪ দিন থেকে বাগানের এক টিলা থেকে আরেক টিলায় গিয়ে কর্মরত শ্রমিকদের ধাওয়া করছে উন্মত্ত হাতি।  ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি উন্মত্ত হাতির আক্রমনে ২ ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। ফলে হাতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও চা শ্রমিকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।  প্রতি বছর আগস্ট-অক্টোবর সময়কালে পুরুষ হাতিরা স্ত্রী হাতির সঙ্গ পেতে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে বলে স্থানীয় অনেকে অভিমত জানান।

মেরিনা বাগানের চা শ্রমিক আগাতা গমেজ, রুচিয়া বেগম, আলিয়া সাংমা, জসিন্তা সাংমা, রিনা বুনার্জি ও পিয়ারা বেগম প্রায় অভিন্ন শঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, 'হাতি অবস্থানের কারণে আমরা ভয়ে কাজে যেতে পারছি না। এমনকি ভয়ে আমরা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছি।'

সেকশন পাহারাদার জানু মিয়া বলেন, 'বিশাল আকৃতির হাতিটি দেখতে ভয়ঙ্কর। মানুষের শব্দ পেলেই তেড়ে আসে।'

বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি খোকা নায়েক বলেন, 'চা-বাগান এলাকায় হাতি অবস্থান করায় আশপাশের ৭-৮ টি গ্রামের শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেক দিনমজুর পাহাড়ে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যান। কিন্তু হাতির ভয়ে তারা এখন আর যাচ্ছেন না।'

মেরিনা চা-বাগানের ব্যবস্থাপক রবিউল হাসান বলেন, 'হাতির ভয়ে ওই সেকশনগুলোতে বাগানের কোন শ্রমিক কাজে যাচ্ছেন না। চারদিন কাজ না হওয়ায় সেসব সেকশনে চা-পাতাগুলো বড় হয়ে উত্তোলনের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এছাড়াও হাতির তান্ডবে সেকশনের চা-গাছ, শেড-ট্রি এবং অনেক কাঠ নষ্ট হচ্ছে। সব মিলিয়ে বাগান ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও থানা প্রশাসনকে অবহিত করেছি।'

কুলাউড়া বনবিট কর্মকর্তা রিয়াজ আহমদ বলেন, ' হাতির মালিক কর্মধা ইউনিয়নের মানিক মিয়াকে ঘটনা অবহিত করা হয়েছে। তিনি হাতিটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে কয়েকজন মাহুত নিয়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন।'

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, ' বিষয়টি আমি জেনেছি। হাতিটি নিয়ন্ত্রনে আনতে বন বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসন কাজ করছে। আশা করছি হাতিটি নিয়ন্ত্রনে আনা যাবে।' জনসাধারণকে এ সময়ে চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেন তিনি।

২০১৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাতে পুটিছড়া বনবিটের এলাপুর নামক স্থানে পথচারিদের উপর হামলা চালায় একটি উন্মত্ত হাতি। এতে ঘটনাস্থলেই মঙ্গল খাড়িয়া (৪৫) নামক ব্যক্তি মারা যান। ২০ দিন পর মেরিনা চা বাগানের ৮নং সেকশনে ওই হাতির আক্রমনে কর্মধা ইউনিয়নের মনছড়া গ্রামের গণি মিয়া (৫০) নামের মাহুত মারা যান। পরে ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ টিম পৌছে হাতিটি নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা