kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রোহিঙ্গাকে ভোটার করতে জামায়াত নেতা ও মাদরাসা শিক্ষকের দৌড়ঝাঁপ

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০১:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গাকে ভোটার করতে জামায়াত নেতা ও মাদরাসা শিক্ষকের দৌড়ঝাঁপ

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে এক রোহিঙ্গা তরুণকে ভোটার করতে একাধিক জামায়াত নেতা ও মাদরাসা শিক্ষক দৌড়ঝাঁপ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ জন্য একের পর এক মিথ্যা তথ্য ও কাহিনি প্রচার করা হচ্ছে। 

মোহাম্মদ তারেক নামের ওই রোহিঙ্গা তরুণকে ভোটার তালিকাভুক্ত করতে প্রকাশ্যে জোরালো তদবিরে নেমেছেন রামু উপজেলা জামায়াত নেতা মওলানা নুরুল হাকিম। তিনি রামু উপজেলা পরিষদ পরিচালিত সরকারি জামে মসজিদের ইমাম।

বিষয়টি নিয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রণয় চাকমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকাভুক্ত হতে দেওয়া হবে না। তদুপরি উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের ইমাম হয়ে মওলানা নুরুল হাকিম কী করে একজন রোহিঙ্গাকে ভোটার তালিকাভুক্ত করতে তদবির করছেন তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।

এলাকার লোকজন জানান, কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডভুক্ত ফাক্রিকাটা গ্রামের বাসিন্দা জামায়াত নেতা ও মাদরাসা শিক্ষক মৌলভি আবু তাহের ছিলেন একাত্তরে রাজাকার বাহিনীর ছাত্র সংগঠন আলশামসের সক্রিয় নেতা। তিনি বর্তমানে গর্জনিয়া ফইজুল মাদরাসার শিক্ষক। তাঁর কোনো ছেলে সন্তান না থাকায় আট বছর আগে মোহাম্মদ তারেক নামে এক রোহিঙ্গা শিশুকে আশ্রয় দেন তিনি।

স্থানীয় গ্রামবাসী মোহাম্মদ ইউনুছ ও রফিক আহমদসহ অনেকে জানান, রোহিঙ্গা কিশোর তারেককে জামায়াত নেতা মৌলভি আবু তাহের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর সময় পিতা হিসেবে নিজের নাম উল্লেখ করেন। বাস্তবে তারেকের বাবার নাম আজিজুল হক। 

রোহিঙ্গা কিশোর তারেক এত দিনে ভোটার তালিকাভুক্তির বয়সে উত্তীর্ণ হয়েছে। সব শেষ গত ১৫ অক্টোবর রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদে হালনাগাদ ভোটারদের ছবি করতে এলে গোয়েন্দাদের নজরে পড়ে যায়। তারা অনুসন্ধান করে দেখতে পান, তারেকের জন্মনিবন্ধন ভুয়া। তারেক নিজেও গোয়েন্দাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে, সে রোহিঙ্গা অছিয়র রহমানের নাতি, বাবার নাম আজিজুল হক। তার পরও জামায়াত নেতা মৌলভি আবু তাহের দাবি করছেন তারেক তাঁর নিজের ছেলে।

এ ব্যাপারে মৌলভি আবু তাহেরের মোবাইল ফোনে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার বেশ কয়েকটি মেয়ে সন্তান থাকলেও ছেলে নেই। দুটি ছেলে সন্তান হলেও তারা শিশুকালেই মারা যায়। এ অবস্থায় স্থানীয় একজনের একটি পাঁচ মাস বয়সের শিশুসন্তান একআত্মীয়ের মাধ্যমে দত্তক নিই। সেই ছেলেই এই মোহাম্মদ তারেক। তারেকের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংশ্লিষ্টতা নেই।’

রামুর জামায়াত নেতা মওলানা নুরুল হাকিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আবু তাহের আমার স্ত্রীর ভাই। সে সুবাদে ওই পরিবার সম্পর্কে আমি খুব ভালোভাবেই জানি। আবু তাহেরের দত্তক নেওয়া ছেলেটি এ দেশেরই একজনের সন্তান, রোহিঙ্গা নয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা