kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ইউএনওদের হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো দুই বাল্যবিয়ে

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইউএনওদের হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো দুই বাল্যবিয়ে

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও নান্দাইলে ইউএনওদের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পায় সোনিয়া ও মারুফা নামে দুই স্কুলছাত্রী। অপরদিকে নোটারী পাবলিকে এফিডেভিট করে ১৫ থেকে বয়স বাড়িয়ে ১৯ করে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মাদরাসা ছাত্রীর বাল্যবিয়ে সম্পন্ন হয় নান্দাইলের রামেকান্দা গ্রামে। আজ শুক্রবার এ ধরনের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে সীমারবুক গ্রামের আব্দুল হাইয়ের মেয়ে সোনিয়া আক্তার। আজ শুক্রবার তার বিয়ে দিন তারিখ ধার্য ছিল। বর  ফুলপুর উপজেলার তারুাকান্দা থানার মধুপুর গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে মো. মঞ্জুরুল। সকাল থেকেই কনের বাড়িতে সামিয়ানা টানিয়ে রঙবেরঙের সাজে বিয়ের আয়োজন চলছিল। এ অবস্থায় এ বিয়ের খবর পান ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে রুমানা তুয়া। 

তিনি ঘটনাস্থলে পাঠান পুলিশের একটি দলসহ তাঁর কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী। তাঁরা বিয়ে বাড়িতে গিয়ে কনের জন্ম নিবন্ধন যাচাই করে দেখতে পান সোনিয়ার জন্ম তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০০৫। এ সময় পূর্ণ বয়স না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দেওয়া যাবে না ইউএনও’র এই নির্দেশের কথা বলা হয় কনের বাবাকে। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মেয়ের পূর্ণ বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না বলে লিখিত অঙ্গীকারনামা দেন। 

অপরদিকে নান্দাইল উপজেলার উদং গ্রামের বাচ্চু মিয়ার মেয়ে মারুফা আক্তারের (১৪) বিয়ের আয়োজন চলছিল। এ খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহিম সুজন স্থানীয় ইউপি সদস্যকে কনের বাড়িতে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পরে জন্ম নিবন্ধনে বয়স কম থাকায় বিয়ে বন্ধ করে দেন। অন্যদিকে নান্দাইলের সদর ইউনিয়নের রামেকান্দা গ্রামে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মাদরাসা ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন চলছিল। এ খবর ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পায় নান্দাইল থানা। 

পরে ওসির নির্দেশে ঘটনাস্থলে যান উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বিয়ের আয়োজনের সত্যতা পেয়ে এই বিয়ে বন্ধ করতে বলেন। এসআই রফিক জানান, এ সময় কনের বাবা ময়মনসিংহের বিজ্ঞ নোটারি পাবলিকের একটি এফিডেভিট দাখিল করেন। এতে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার প্যারি নারায়নপুর গ্রামের আব্দুর রাশিদের ছেলে মো. আতাউর রহমানের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা ও আলাপচারিতার মাধ্যমে ভালোবাসার কথা বর্ণনা করে নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে মেনে নিয়েছে মর্মে স্বজ্ঞানে দুই জনেই স্বাক্ষর করে। এখানে কনে রিনার বয়স ১৯ উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে নিকাহ নিবন্ধক ডেকে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করবে বলে অঙ্গীকারও করেন। এ ঘটনায় এসআই রফিক নোটারি পাবলিকের এই এফিডেভিট নিয়ে আসলেও বিয়ে বন্ধ করতে পারেননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা