kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভর্তির টাকা কনে পাবো? মেডিক্যালে চান্স পাওয়া নিপুর বাবার প্রশ্ন

ফখরে আলম, যশোর   

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ১৬:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভর্তির টাকা কনে পাবো? মেডিক্যালে চান্স পাওয়া নিপুর বাবার প্রশ্ন

নিপু বিশ্বাস।

নিপুর বাবা রণজিৎ বিশ্বাস। হৃদরোগে আক্রান্ত। আর্থিক অনটনে চিকিৎসা নিতে পারেননি। তাই নিপু প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, যে কোনোভাবেই হোক চিকিৎসক তাকে হতেই হবে। রাত জেগে একা একা বই পড়ে অদম্য মেধাবী নিপু খুলনা মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পেয়েছেন।

এদিকে, বাবার চোখে ঘুম নেই। ঝুড়ি ডালা তৈরি করে দিনে দু’শ টাকা আয় করা বাবা রণজিৎ বিশ্বাস কিভাবে ছেলেকে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করবেন এই চিন্তায় বিভোর। রণজিৎ বিশ্বাস বললেন, ‘আমাইর কোনো ক্যাপাসিটি নেই। আমার ছেলে কি শেষ পর্যন্ত ডাক্তার হতি পারবে? ভর্তির টাকা আমি কনে পাবো?’ 

যশোর সদর উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামের নিপু বিশ্বাসের এগিয়ে চলার সঙ্গে ‘কালের কণ্ঠ’ যুক্ত হয়ে আছে। তাকে নিয়ে খবর প্রকাশের পর তিনি সাইকেল উপহার পেয়েছেন। পেয়েছেন শিক্ষা বৃত্তিও। নিপুর সেই সাইকেলটি এখনো নতুনের মতো আছে। দুই বছর তিনি এই সাইকেলের প্যাডেল চালিয়ে গ্রাম থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে যশোর সরকারি এম.এম কলেজে পড়তে এসেছিলেন। সাইকেলটি তার কাছে কালের কণ্ঠের সাইকেল নামে পরিচিত। ২০১৭ সালের মেধাবী হতদরিদ্র ঋষি পরিবারের সন্তান নিপু মাধ্যমিকে সব বিষয়ে জিপিএ-ফাইভ পেয়েছিলেন। তাকে নিয়ে ওই বছর ২০ মে কালের কণ্ঠে ‘নিপুর স্বপ্ন কি পূরণ হবে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল। প্রতিবেদনটি পড়ে কালের কণ্ঠের একজন পাঠক গ্রাম থেকে কলেজে যাতায়াতের জন্যে নিপুকে সাইকেলটি উপহার দেন। এক জন তাকে কলেজে ভর্তি করে দেন। সাইকেলে চেপে কলেজে এসে নিপু এবার উচ্চ মাধ্যমিকেও (বিজ্ঞান বিভাগে) সব বিষয়ে জিপিএ-ফাইভ পান। 

এ বিষয়ে গত ২৬ জুলাই কালের কণ্ঠে আবার নিপুকে নিয়ে লেখা হয়, ‘নিপুর একটাই স্বপ্ন- ডাক্তার হওয়া’। গত মঙ্গলবার মেডিক্যাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। ফলাফল দেখে নিপু জানতে পারেন তিনি খুলনা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এই আনন্দে নিপু কেঁদেই ফেলেছেন। নিপু বলল, ‘কালের কণ্ঠের সাইকেল চালিয়ে কলেজে গিয়েছি। বৃত্তির টাকায় লেখাপড়া করেছি। এখন আমি ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু আমাকে ডাক্তারি পড়ানোর মতো সমার্থ আমার বাবার নেই।’ 

নিপুর মা সাগরিকা বিশ্বাস শুধু ঈশ্বরকে স্মরণ করছেন। তিনি বলেন, ‘ছেলেকে এক গ্লাস দুধ খাওয়াতে পারিনি। একটি ডিম খাওয়াতে পারিনি। সেই ছেলে আমার ঈশ্বরের কৃপায় ডাক্তারি পড়ার সুয়োগ পেলো। এখন আমি কি করি? ওর বাবা ঝুড়ি ডালা বুনে দিনে দু’শ থেকে তিনশ টাকা আয় করেন। কুঁড়ের ঘর আর অভাব ছাড়া আমাদের কোনো সম্পদ নেই।’

নিপু বাড়ির পাশের ডাকাতিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পান। অষ্টম শ্রেণিতে এ প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হন। মাধ্যমিকে একি স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে সব বিষয়ে জিপিএ-ফাইভ পেয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। নিপুর লেখাপড়ার উৎসাহদাতা এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হেলেনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘নিপু আমাদের স্কুলে ভালো ফল করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। তাকে নিয়ে কালের কণ্ঠে প্রতিবেদন প্রকাশের পর একটি সাইকেল উপহার পেয়েছিল। এখন ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পেয়েছে। আমি খবর নিয়ে জেনেছি, ভর্তি ফিসহ বই পুস্তক দরকারি জিনিসপত্র কিনতে খরচ হবে কুড়ি হাজার টাকা। কিন্তু নিপুদের দুই হাজার টাকা খরচ করারও সঙ্গতি নেই। যে কারণে নিপুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সহৃদয়বান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা উচিত।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা