kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

স্বাবলম্বী হওয়ার পর বিয়ে ৬৯, বাবা ৭১ বছরে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ১২:১২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



স্বাবলম্বী হওয়ার পর বিয়ে ৬৯, বাবা ৭১ বছরে

কলাদিয়া গ্রামের অবস্থান ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায়। ওই গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান তোতা মিয়া। স্বাবলম্বী না হয়ে বিয়ে করবেন না- এমন প্রত্যয় ছিল তাঁর।

নিজের চেষ্টা আর অপেক্ষার পর  স্বাবলম্বিতা আসে ৬৯ বছরে। বয়সের দিক দিয়ে যথেষ্ট দেরি হলেও দেরি হয় না বিয়েতে। এই বয়সেই বিয়ে করে ফেলেন। এর দুই বছরের মাথায় ৭১-এ সবাইকে অবাক করে সন্তানের বাবা হলেন দৃঢ়প্রত্যয়ী এই বৃদ্ধ।

সাত ভাই-বোনের মধ্যে তোতা মিয়া সর্বকনিষ্ঠ। বর্তমানে ২০ একর জমির মালিক তিনি। গ্রামের মানুষের সুবিধার্থে প্রতিষ্ঠা করেছেন নিজ নামে সরকারি প্রাথমিক স্কুল, কওমি মাদ্রাসা, জামে মসজিদ, কবরস্থান, ঈদগাহ মাঠ। এছাড়াও একটি কলেজ ও বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তুলতে দুই একর জমি দান করেছেন তিনি।

জীবনে এত কিছু করার উদ্দেশ্য ছিল একটিই- স্বাবলম্বী, স্বনির্ভর ও আত্মবিশ্বাসী হলেই কেবল বিয়ে করবেন। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সময় চলে গেছে দীর্ঘ সময়। ৬৯ বছর বয়সে বিয়ে কথা ভাবেন তিনি। এ বয়সে চাইলেই পাত্রী কোথায় পাবেন? সেই সাধও পূরণ করেছেন, একই উপজেলার কুমারগাতা ইউনিয়নের মনতলা গ্রামের ২৩ বছর বয়সী আকলিমা খাতুন।

দরিদ্র পরিবারের এক কন্যা সন্তানের জননী স্বামী পরিত্যক্তা আকলিমা খাতুন সম্মত হন তোতাকে বিয়ে করতে। বিয়ের দুই বছরের মধ্যেই অর্থাৎ চলতি বছরের ১৮ জুলাই দম্পতি এক পুত্র সন্তান লাভ করেন।

তোতা মিয়া সন্তানের নাম দিয়েছেন মো. আল রহমত উল্লাহ। বলেন, শৈশব থেকে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে আমাকে অনেক ধাপ পার হতে হয়েছে। সম্পদশালী হয়ে ওঠা এই কৃষক বলেন, 'কলা, আলু চাষাবাদ করে আমি আজ সম্পদের মালিক হয়েছি। মানুষের কল্যাণে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। এজন্য আমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। সফল হতে গেলে বয়স লাগে না।'

প্রিয় সন্তান প্রসঙ্গে বলেন, 'সন্তানটি এখন আমার জীবনের নির্ভরযোগ্য বন্ধন। ওকে নিয়েই আমার এখন বেশি সময় কাটছে। লেখাপড়া শিখিয়ে ওকে বড় করতে চাই। চাই বড় হয়ে মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসুক- মানুষের জন্য কাজ করুক।' 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা