kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

হাটহাজারীতে পাওয়ার বয়েজ গ্রুপের হামলায় রক্তাক্ত ২

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাটহাজারীতে পাওয়ার বয়েজ গ্রুপের হামলায় রক্তাক্ত ২

চট্টগ্রামের হাটহাজারী সদরে আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাওয়ার বয়েজ নামে একটি বখাটে গ্রুপ। গত বছরের (২০১৮) ৫ মার্চ হাটহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়কে যুবদল কর্মী সোহেল হত্যার পর জেলে থাকায় এ বখাটে গ্রুপের সদস্যদের দাপট কিছুটা কম থাকলেও সম্প্রতি আবারো শুরু হয়েছে ছিনতাই, ইভটিজিং, মাদক সেবন, মাদক বিক্রি, তুচ্ছ ঘটনায় হামলার ঘটনা।

সর্বশেষ গতকাল বুধবার (১৬ অক্টোবর) পাওয়ার বয়েজের সদস্য ও সোহেল হত্যা মামলার প্রধান আসামি তারেক ও সায়েম প্রকাশ তুফান ও তাদের সহযোগীদের অতর্কিত হামলায় পৌর সদরে মারাত্মক আহত হয়েছে দুই সিএনজিচালক।

সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার হাটহাজারী বাজারের পশ্চিমে কৃষি ফার্ম সড়কের চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রেল লাইন এলাকায় পাওয়ার বয়েজের বখাটেরা এ হামলা করে। হামলায় হাটহাজারী বাজার কৃষি ফার্ম সড়ক সিএনজি চালক ভাই ভাই কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আলি আজম ও সদস্য আব্দুচ সালাম মারাত্মকভাবে আহত হয়। জানা গেছে, রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টার দিকে হাটহাজারী বাজার সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় যানজট নিয়ে পাওয়ার বয়েজ গ্রুফের সদস্য তারেকের বড় ভাই কোরবান আলির সাথে সিএনজি চালকদের কথাকাটাকাটি হয় এবং এক পর্যায়ে তা মিমাংসাও হয়ে যায়। পরে রাত দশটার দিকে সিএনজি চালক ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আহত আলি আজম যাত্রী নিয়ে হাটহাজারী ফায়ার স্টেশনের দিকে রওনা দিলে স্ট্যন্ড থেকে চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রেল লাইন এলাকায় পৌঁছলে রঙ্গিপাড়া এলাকার লেদু মিয়ার ছেলে কোরবান আলি (২৫), তারেক (২২), রবি (২০), ও বরকত আলির ছেলে সায়েম প্রকাশ তুফান (২২) সহযোগী অজ্ঞাত ২/৩ জন বহিরাগত মিলে দেশীয় অস্ত্রেসজ্জিত হয়ে তার উপর হামলা করে। এ সময় সিএনজিতে থাকা যাত্রীরা দ্রুত সিএনজি স্ট্যান্ডে হামলার ঘটনা জানালে সংগঠনের সদস্য ও হামলার শিকার আলি আজমের ভাতিজা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাকেও কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে হামলাকারীরা। পরে সংগঠনের সদস্য এবং স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গেলে তারা পালিয়ে যায়।

পরে আহতদের উদ্ধার করে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে স্থানীয়রা। আহতদের উভয়ের মাথায় ৮/১০টি সেলাই হয়েছে বলেও জানা গেছে। এদিকে রাতেই হামলাকারী চারজনের নামসহ অজ্ঞাত আরো ২/৩ জনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন আহত আব্দুচ সালাম।

অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই অজয় বলেন, মারামারির সত্যতা পেয়েছি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে হামলার ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী দোষীদের দ্রুত আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শান্তি দাবি করেন। এ সময় হামলাকারীদের ছিনতাইকারী দাবি করে বলেন, রাতে সুযোগ পেলেই ছিনতাই করেন। এলাকার স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ মহিলাদের ইভটিজিং করে। তুচ্ছ ঘটনায় যে কাউকে দলবদ্ধ হয়ে হামলা চালান। তারা এলাকায় মাদক সেবন এবং বিক্রিতে শীর্ষে জানিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে বলেন এ যেন হাটহাজারী পৌর এলাকা তাদের রাজত্বে।

তারা আরো বলেন, এই চক্রটিই গত বছর মোবাইল ছিনতাইয়ের প্রতিবাদ করায় উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে এলাকায় সোহেলকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

এদিকে সিএনজি চালকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কাল শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সিএনজি চলাচল বন্ধ থাকবে এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারে সকাল ১০টায় মানববন্ধন করবে সিএনজি সমিতি ও এলাকাবাসী।

হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। আমার অফিসার তদন্ত করছেন। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা